দায়িত্বশীল নাগরিকই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ শুধু সরকারি পরিকল্পনা নয় বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে নাগরিকদের দায়িত্বের সাথে দেশের নাগরিকদের দায়িত্বশীলতা, সততা, দক্ষতা ও দেশপ্রেম গভীরভাবে জড়িত। সরকার উন্নয়নের জন্য নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক যদি নিজের অবস্থান থেকে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন তাহলে অনৈতিকভাবে শক্তিশালী, সামাজিকভাবে শান্তিপূর্ণ, শিক্ষায় উন্নত এবং প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা সমৃদ্ধ দেশ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র সব জায়গায় সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। ঘুষ, প্রতারণা, জালিয়াতি, স্বজনপ্রীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকতে হবে। নাগরিকদের মধ্যে মূল্যবোধ শক্তিশালী হলে দুর্নীতি কমবে, প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্তা বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরও গতিশীল হবে। আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া নাগরিকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলা, অন্যের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রত্যেক নাগরিকদের কর্তব্য। আইন অমান্য, সহিংসতা, অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা একটি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।
নাগরিকদের আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং নিজের পাশাপাশি অন্যদেরও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন হওয়াও নাগরিক দায়িত্ব। দুর্নীতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ঘটায়। শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন নাগরিকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একজন শিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক শুধু নিজের জীবনকে উন্নত করে না তিনি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখেন। প্রত্যেক নাগরিককে জ্ঞান অর্জন, প্রযুক্তি শেখা, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন বিষয়ে নিজেকে উপযুক্ত করে তুলতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুৃক্তি কারিগরি শিক্ষা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও গবেষণার সাথে যুক্ত করা প্রয়োজন। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন দেশের প্রতিটি নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ব। দেশকে ভালোবাসা শুধু মুখের কথায় প্রকাশ করলে হবে না, সততার সাথে কাজ করা, আইন মেনে চলা, শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করা, পরিবেশ রক্ষা করা, অন্যের অধিকারকে সম্মান করা এবং দেশের সম্পদ সংরক্ষণ করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটে।
আইন কানুন মেনে চলা
একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি শুধু সরকারি পরিকল্পনা, বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না এর সাথে দেশের নাগরিকদের দায়িত্বশীলতা, সততা, দক্ষতা ও দেশপ্রেম গভীরভারে জড়িত। সরকার উন্নয়নের জন্য নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে কিন্তু সেই পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজ। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক যদি নিজের অবস্থান থেকে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন তাহলে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী, সামাজিকভাবে শান্তিপূর্ণ, শিক্ষায় উন্নত এবং প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া নাগরিকদের প্রধান দায়িত্ব। দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলা, অন্যের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। আইন অমান্য, সহিংসতা, অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা একটি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। নাগরিকদের আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং নিজের পাশাপাশি অন্যদেরও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করতে হবে।
দেশের প্রতি দায়িত্ব ও দেশপ্রেমী হওয়া
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও গভীর দেশপ্রেম থাকা গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেম শুধু দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা বলা বা জাতীয় দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং দেশের কল্যাণে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা, দেশের আইনকানুন মেনে চলা, মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা এবং দেশের সম্পদ ও মর্যাদা রক্ষা করার মধ্যেই প্রকৃত দেশপ্রেমর প্রকাশ ঘটে। একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিক নিজের স্বার্থের পাশাপাশি দেশের বৃহৎর স্বার্থের কথাও বিবেচনা করেন। দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের প্রথম ধাপ হলো নিজ নিজ কাজ সততা ও নিষ্ঠার সাথে করা। একজন শিক্ষার্থী মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেকে যোগ্য করে তুললে ভবিষ্যতে দেশের জন্য দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হতে হবে। একজন শিক্ষক আন্তরিকতার সাথে শিক্ষা দিলে জ্ঞানী ও নৈতিক প্রজন্ম তৈরি হয়। কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ি, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ প্রত্যেক পেশার মানুষ দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক শক্তিশালী হয়।
সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য নাগরিকদের মধ্যে সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে সম্পূর্ণ হয় না মানুষের চরিত্র, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক বিশ্বাসও দেশের প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করে। নাগরিকরা যদি ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনে সৎ ও নীতিবান হন তাহলে সমাজে প্রতারণা, অন্যায় ও অনিয়ম কমে আসে এবং একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে ওঠে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে সচেতন হওয়া
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের পথে দুর্নীতি একটি বড় বাধা। দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থ ও সম্পদের অপচয় হয়, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্তা কমে যায় এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হয়। দুর্নীতি প্রতিরোধের শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থান ভূমিকা যথেষ্ট নয় দেশের প্রতিটি নাগরিককেও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। নাগরিকদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব তৈরি হলে সমাজে অনিয়ম ও অসততার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো নিজে দুর্নীতি মুক্ত থাকা। ঘুষ দেওয়া বা নেওয়া, প্রতারণা করা, অবৈধ সুবিধা গ্রহণ, সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে প্রত্যেক নাগরিককে বিরত থাকতে হবে। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্যায় পথে না গিয়ে নিয়ম ও আইন মেনে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে একজন নাগরিক নিজে সৎ থাকার পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদেরও সততা ও নৈতিকতার পথে উৎসাহিত করতে পারেন। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা অনলাইনে গ্রহণের সুযোগ থাকায় সরাসরি যোগাযোগ ও অনিয়মের কিছু সুযোগ কমানো সম্ভব।
শিক্ষা গ্রহণ ও জ্ঞান অর্জন করা
বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে নাগরিকদের শিক্ষাগ্রহণ অর্জনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষা মানুষকে শুধু পড়তে লিখতে শেখায় না বরং ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা, যুক্তিবোধ, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা তৈরি করে। একজন শিক্ষিত ও জ্ঞানী নাগরিক নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং দেশের আইন কানুন ও সামাজিক মূল্যবোধকে সম্মান করেন। শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নাগরিকরা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। এই দক্ষতা মানবসম্পদ দেশের উৎপাদশীলতা বাড়াতে এবং নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সাথে শিক্ষিত নাগরিক গুজব, অপপ্রচার ও ভুল তথ্য থেকে সতর্ক থাকতে পারে এবং যাচাই বাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রত্যেক নাগরিকদের উচিত নিয়মিত পড়াশোনা করা, নতুন বিষয় শেখার আগ্রহ রাখা, তথ্য ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করা এবং নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা সময়ের সাথে উন্নত করা।
পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। আমাদের নদী, খাল বিল, বনভূমি, কৃষিজমি, জলাভূমি, মাটি, জীববৈচিত্র্য ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সাথে গভীরভাবে জড়িত। নাগরিকদের উচিত ময়লা আবর্জনা না ফেলা, প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো, বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং গাছ কাটার ক্ষেত্রে সচেতন থাকা।
দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মমূখী হওয়া
বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে নাগরিকদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করলেই হবে না পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মমুখী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একজন দক্ষ নাগরিক নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন এবং দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারেন। কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা বিভিন্ন পেশায় প্রয়োজনীয় বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে। কম্পিউটার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, কারিগরি কাজ, শিল্প, ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করলে বেকারত্ব কমাতে সহায়তা করা সম্ভব। একই সাথে নারীদের ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো হলে দেশের মানব সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে। প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিজের আগ্রহ ও যোগ্যতা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জন করা এবং নিয়মিত তা উন্নত করা। শুধু চাকরির ওপর নির্ভর না করে উদ্যোক্তা হওয়া, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সাবলম্বী হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা
উন্নত বাংলাদেশ গঠনে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের উন্নয়ন শুধু সরকারের একার নয় দেশের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে পালন করে তাহলে সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন ত্বরাণ্বিত হয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সমাজ প্রতিটি ক্ষেত্রেই নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব হলো মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা, নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। একজন কর্মজীবির দায়িত্ব হলো সময়মতো ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করা এবং নিজের পেশাগত দায়িত্বে সততা বজায় রাখা। ব্যবসায়িদের উচিত সঠিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা ও ভোক্তাদের অধিকারকে সম্মান করা। একইভাবে প্রত্যেক নাগরিকের উচিত আইন কানুন মেনে চলা, সরকারি সম্পদ রক্ষা করা, কর ও অন্যান্য দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং সমাজের অন্য মানুষের অধিকারকে সম্মান করা। নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে সমাজে শৃঙ্খলা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা
সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গঠনে প্রত্যেক নাগরিকের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা নাগরিক দায়িত্বের অংশ। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা উচিত। নাগরিকদের নিয়মিত হাত ধোয়া, নিরাপদ পানি পান করা, খাবার ঢেকে রাখা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পড়া এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি মশা, মাছি ও জীবাণুর বিস্তার রোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসরণ করা প্রয়োজন। অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি। প্রত্যেকে যদি নিজের জায়গা থেকে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তাহলে রোগবালাই কমানো, চিকিৎসার ব্যয় হ্রাস এবং একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে। পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধিকে দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত করা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখা
একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের জন্য সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে ধর্ম, বর্ণ, মত, পেশা বা আর্থিক অবস্থার পার্থক্য থাকলেও সবাইকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল হতে হবে। মতের ভিন্নতা থাকলে তা নিয়ে সংঘাত সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা ও সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। বিপদে আপদে একে অপরের পাশে দাড়ানো, অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে সহযোহিতা করা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করা নাগরিকদের দায়িত্ব। গুজব, বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা ও বিভেদমূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত থেকে সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিবেশির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ, পারস্পরিক সম্মান এবং সহযোগিতার মনোভাব সমাজে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকলে মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়ে সামাজিক অস্থিরতা কমে এবং দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সহজ হয়। প্রত্যেক নাগরিকের উচিত বিভেদ নয় বরং ঐক্য, সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখা।
নারী, শিশু ও প্রবীণদের অধিকারকে সম্মান করা
উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠনের জন্য নারী, শিশু ও প্রবীণদের অধিকারকে সম্মান করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। সমাজের এই তিনটি শ্রেণি নানা ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার প্রয়োজন অনুভব করে। তাদের প্রতি বৈষম্য, অবহেলা, নির্যাতন ও অন্যায় আচরণ না করে সম্মান ও সহমর্মিতার সাথে আচরণ করতে হবে। নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মতপ্রকাশ ও নিরাপদে চলাফেরার অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। শিশুদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা ও সুন্দভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিশৃুকে নির্যাতন, শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ বা অন্য কোনো ক্ষতিকর কাজে যুক্ত করা উচিত নয়। একইভাবে প্রবীণদের প্রতি সম্মান দেখানো, তাদের প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা করা এবং একাকিত্ব ও অবহেলা থেকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরে নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের চর্চা করতে হবে। তাদের অধিকার রক্ষা করা শুধু মানবিকতার পরিচয় নয় বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও উন্নত সমাজ গঠনের অন্যতম শর্ত।
সরকারি সম্পদ ও জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা করা
সরকারি ও জাতীয় সম্পদ একটি দেশের জনগণের সম্পদ। রাস্তা, সেতু, সরকারি ভবন, হাসপাতাল, বিদ্যালয়, পার্ক, গণপরিবহন, বিদ্যুৎ ও পানির অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হয়। এসব সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সুরক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। সরকারি সম্পদ নষ্ট করা, ভাঙচুর করা, দেয়ালে অপ্রয়োজনীয় লেখা, বিদ্যুৎ বা পানি অপচয় করা এবং সরকারি স্থাপনা অবৈধভাবে দখল করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো জাতীয় সম্পদ ক্ষতিগ্রস্থ হতে দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং অন্যদেরও সচেতন করা প্রয়োজন। একই সাথে বন, নদী, জলাশয়, খনিজ সম্পদ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণেও নাগরিকদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। জাতীয় সম্পদ সুরক্ষিত থাকলে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সুফল দীর্ঘদিন ধরে জনগণ ভোগ করতে পারে এবং রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় কমে। সরকারি ও জাতীয় সম্পদকে নিজের সম্পদের মতো যন্ত্র করা, অপচয় রোধ করা এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করা দায়িত্বশীল নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।
দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা
দেশের উন্নয়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয় নাগরিকদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণও একটি দেশের অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক নাগরিক নিজের অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সহযোগিতা করতে পারে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে দায়িত্বশীলভাবে অংশগ্রহণ করা নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। স্থানীয় পর্যায়ে রাস্তা ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের মতো উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা করা যেতে পারে। স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকান্ডে অংশ নেওয়া, অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখাও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং কোনো অনিয়ম বা অপচয় দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। নাগরিকরা যদি নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে তাহলে উন্নয়ন কর্মকান্ড আরও কার্যকর ও টেকসই হয়।
উন্নত বাংলাদেশ গঠন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয় দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও দেশের উন্নয়নের সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। আইন কানুন মেনে চলা, দেশপ্রেম ও সততা বজায় রাখা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন হওয়া, শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, নারী শিশু ও প্রবীণদের অধিকারকে সম্মান করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এসব নাগরিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা প্রয়োজন। একই সাথে সরকারি ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিক যদি নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে নিষ্ঠা, সততা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের সাথে কাজ করে তাহলে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।


