বাংলাদেশের বসুন্ধরা সিটি আধুনিকতা ও বাণিজ্যের এক অনন্য প্রতীক।
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ঢাকার পান্থপথ এলাকায় অবস্থিত একটি পরিচিত আধুনিক বাণিজ্যও বিনোদকেন্দ্র। বসুন্ধরা সিটি রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে কেনাকাটা ও অবসর বিনোদনের জন্য মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশাল ভবন, আধুনিক স্থাপত্য এবং বিভিন্ন ধরনের দোকান ও সেবার সমন্বয়ের কারণে বসুন্ধরা সিটি ঢাকার নগরজীবনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। বসুন্ধরা সিটিতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনার সুযোগ রয়েছে। পোশাক, জুতা, ব্যাগ, প্রসাধনী, গৃহস্থালি সামগ্রী, ইলেকট্রনিক পণ্য, মোবাইল ও কম্পিউটার সামগ্রীসহ নানাধরনের পণ্য এখানে পাওয়া যায়। একই জায়গায় বিভিন্ন দোকান থাকায় ক্রেতারা পণ্য দেখতে, তুলনা করতে ও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের রেস্তোরা ও খাবারের দোকানের কারণে দর্শনার্থীরা কেনাকাটার পাশাপাশি দেশি বিদেশি নানা ধরনের খাবার উপভোগ করতে পারেন। পরিবার বা বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর ক্ষেত্রেও খাবারের জায়গাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বসুন্ধরা সিটিতে কেনাকাটার পাশাপাশি বিনোদনেরও সুযোগ রয়েছে। সিনেমা দেখা, খাবার খাওয়া, বন্ধু ও পরিবারের সাথে সময় কাটানোসহ অবসর বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে।
বসুন্ধরা সিটি শুধু একটি শপিং কমপ্লেক্স নয় বরং অনেকের কাছে একটি পারিবারিক ও সামাজিক মিলনস্থল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বসুন্ধরা সিটিতে বিপুলসংখ্যক দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মী, ব্যবস্থাপক, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ কাজ করেন। কাজকর্মের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বসুন্ধরা সিটি বড় একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও সেবাদাতাদের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে। বসুন্ধরা সিটিতে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় রাজধানীর খুচরা ব্যবসা ও সেবা খাতের কার্যক্রমও গতিশীল হয়। বসুন্ধরা সিটি বড় একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা পরিচালনার জন্য নিরাপত্তা প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। দর্শনার্থীদের স্বাভাবিকভাবে চলাচল ও কেনাকাটার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এসব ব্যবস্থাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা মানুষও বসুন্ধরা সিটি ঘুরে দেখেন। বসুন্ধরা সিটির আধুনিক স্থাপত্য, ব্যস্ত বাণিজ্যিক পরিবেশ এবং বিভিন্ন ধরনের সুবিধা রাজধানীর আধুনিক জীবনযাত্রার চিত্র তোলে ধরে। বসুন্ধরা সিটি শুধু কেনাকাটার একটি স্থান নয়, বসুন্ধরা সিটি ব্যবসা, কর্মসংস্থান, বিনোদন, খাবার ও সামাজিক কর্মকান্ডের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরকেন্দ্র।
বসুন্ধরা সিটির প্রতিষ্ঠা ও উদ্যোগ
ঢাকার পান্থপথে অবস্থিত বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স বাংলাদেশের আধুনিক বাণিজ্যিক স্থাপনার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য নাম। বসুন্ধরা সিটি নির্মাণ ও উদ্যোগ নেয় বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগি প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা সিটি ডেপলপমেন্ট লিমিটেড। ১৯৯৯ সালে প্রকল্পটির নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। শুরুতে প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল শুধু কেনাকাটার স্থান তৈরি করা নয় বরং ব্যবসা, কেনাকাটা ও বিনোদনকে একই কমপ্লেক্সের মধ্যে নিয়ে আসা। বসুন্ধরা সিটির প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেশি ও বিদেশি স্থপতি ও প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে কাজ করা হয়। স্থাপত্য পরিকল্পনায় ভিস্তার্যা আর্কিটেক্টসের সাথে থাইল্যান্ডের কয়েকটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল। ফলে ভবনটির নকশায় আধুনিক স্থাপত্য, প্রশস্ত অভ্যন্তরীণ স্থান এবং বাণিজ্যি ও বিনোদনমূলক সুবিধার সমন্বয় করা হয়। বসুন্ধরা সিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ আগষ্ট ২০০৪ সালে উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বসুন্ধরা সিটির উদ্বোদন করেন। উদ্বোদনের সময় বসুন্ধরা সিটি ২০ তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং সিটিতে বিপুলসংখ্যক দোকান, খাবারের ব্যবস্থা, পার্কিং, লিফট, এসকেলেটর, বিনোদন ও অন্যান্য আধুনিক সুবিধা রাখা হয়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোদনের পর সব দোকান একসাথে চালু হয়নি। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য শপিং কমপ্লেক্সটি ৪ অক্টোবর ২০০৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। ধীরে ধীরে বিভিন্ন দোকান, রেস্তোরা ও বিনোদনকেন্দ্র চালু হওয়ার মাধ্যমে সিটিটি বাণিজ্যিক ও বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়।
বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগ
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার পেছনে বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগ ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়। ঢাকার দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা, মানুষের পরিবর্তিত জীবনযাত্রা এবং আধুনিক কেনাকাটার চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ একটি বড় ও আধুনিক বাণিজ্য কমপ্লেক্স গড়ে তুলার পরিকল্পনা করে। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি স্থান তৈরি করা, যেখানে মানুষ একই জায়গায় কেনাকাটা, খাবার ও বিনোদনের বিভিন্ন সুবিধা পেতে পারে। বসুন্ধরা গ্রুপের পরিকল্পনায় শুধু দোকান নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি বরং একটি আধুনিক শপিং ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এজন্য ভবনের নকশা, দোকানের বিন্যাস, চলাচলের ব্যবস্থা, পার্কিং, নিরাপত্তা ও দর্শনার্থীদের বিভিন্ন সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হয়। বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সের মাধ্যমে ঢাকার প্রচলিত বাজার ব্যবস্থার তুলনায় আরও আধুনিক ও সংগঠিত কেনাকাটার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়। বসুন্ধরা সিটির উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বড় পরিসরে নির্মাণ কাজ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়। আধুনিক স্থাপত্যের সাথে বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে যুক্ত করে বসুন্ধরা সিটিকে একটি আকর্ষণীয় নগরকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। বসুন্ধরা গ্রুপের এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। শপিং কমপ্লেক্সে বিভিন্ন দোকান, রেস্তোরা, সেবা প্রতিষ্ঠান, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনেক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তার জন্য ব্যবসা পরিচালনার একাট বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়।
বসুন্ধরা সিটির আধুনিক স্থাপত্য
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের অন্যতম আকর্ষণ হলো বসুন্ধরা সিটির আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলী। ঢাকার ব্যস্ত পান্থপথ এলাকার মধ্যে বিশাল এই ভবনটি নির্মাণের সময় আধুনিক বাণিজ্যিক স্থাপত্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবনের নকশায় ব্যবসা বাণিজ্যের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের চলাচল, কেনাকাটা, বিনোদন ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়গুলো সমন্বয় করা হয়েছে। বসুন্ধরা সিটির স্থাপত্যে বড় পরিসরের ভবন অবকাঠামো, প্রশস্ত অভ্যন্তরীণ স্থান এবং বিভিন্ন অংশের মধ্যে সহজ যোগাযোগের ব্যবস্থা দেখা যায়। ভবনের বিভিন্ন তলায় দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সাজানো হয়েছে। ক্রেতারা যাতে সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারেন সেজন্য লিফট, এসকেলেটর ও সিড়ির মতো চলাচল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বসুন্ধরা সিটি স্থাপত্যর আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো বড় কেন্দ্রীয় গম্বুজ ও আকর্ষণীয় বহির্ভাগ। দূর থেকে ভবনটির স্বতন্ত্র আকৃতি সহজেই চোখে পড়ে। দিনের আলোতে যেন বসুন্ধরা সিটির স্থাপত্য আলাদা সৌন্দর্য তৈরি করে তেমনি রাতের আলোক সজ্জায় ভবনটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বসুন্ধরা সিটির নকশায় শুধু বাহিরের সৌন্দর্য নয় কার্যকারিতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতে একই সময়ে এখানে কেনাকাটা ও অন্যান্য কার্যক্রম করতে পারেন সেজন্য ভিতরের স্থান পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে। বসুন্ধরা সিটির আধুনিক স্থাপত্য ঢাকার পরিবর্তনশীল নগরজীবনের একটি প্রতিচ্ছবি। বসুন্ধরা সিটি দেখিয়েছে যে একটি শপিং কমপ্লেক্স শুধু দোকানের সমষ্টি না হয়ে বাণিজ্য, বিনোদন ও সামাজিক কর্মকান্ডের সমন্বিত নগরকেন্দ্র হিসেবেও পরিকল্পিত হতে পারে।
বসুন্ধরা সিটির সিনেমা হল
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের বিনোদন ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো সিনেমা হল। কেনাকাটার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা এখানে পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতজনদের সাথে সিনেমা উপভোগ করার সুযোগ পান। ফলে বসুন্ধরা সিটি শুধু কেনাকাটার জায়গা হিসেবে নয় বিনোদনের স্থান হিসেবেও মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সিনেমা হলে বড় পর্দায় চলচ্চিত্র দেখার পাশাপাশি দর্শকদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ ও আধুনিক প্রদর্শনব্যবস্থার ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন সময় নতুন চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথে দর্শকদের আগ্রহও বাড়ে। তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের মানুষ বিনোদনের উদ্দেশ্যে সিনেমা দেখতে আসেন।
বসুন্ধরা সিটির বহু দোকান
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সিটির বিপুলসংখ্যক দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। একই কমপ্লেক্সের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দোকান থাকায় ক্রেতারা এক জায়গায় নিজেদের প্রয়োজনীয় অনেক পণ্য কেনাকাটা করার সুযোগ পান। পোশাক, জুতা, ব্যাগ, প্রসাধনী, গয়না, ইলেকট্রনিক্স, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার সামগ্রী, গৃহস্থালি পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দোকান এখানে রয়েছে। দোকানগুলোর বৈশিষ্ট্যের কারণে বসুন্ধরা সিটিতে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। কেউ প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আসেন, আবার কেউ নতুন পণ্য দেখতে বা বাজারের বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে জানতে আসেন। বিভিন্ন দোকানে দেশি ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া যায় এতে ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পণ্য বেচে নেওয়ার সুযোগ পান। বসুন্ধরা সিটির বিভিন্ন তলায় দোকানগুলো পরিকল্পিতভাবে সাজানো থাকায় ক্রেতারা নির্দিষ্ট ধরনের পণ্যের দোকান খুজে নিতে পারেন। একই ধরনের পণ্যের একাধিক দোকান থাকায় ক্রেতারা দাম, মান, নকশা ও বৈশিষ্ট্য তুলনা করে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বসুন্ধরা সিটিতে শুধু পণ্য বিক্রির দোকান নয় বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। মোবাইল ও প্রযুক্তিগত সংক্রান্ত সেবা, ফ্যাশন ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী, খাবারের দোকান এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান শপিং কমপ্লেক্সেটির বাণিজ্যিক বৈচিত্র্য বাড়িয়েছে। বহু দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের কারণে বসুন্ধরা সিটি কর্মসংস্থানেরও একটি বড় ক্ষেত্র।
বসুন্ধরা সিটির পোশাকের দোকান
বসুন্ধরা সিটির অন্যতম আকর্ষণ হলো সিটির বিভিন্ন ধরনের পোশাকের দোকান। এখানে নারী পুরুষ ও শিশুদের জন্য নানা ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। দেশীয় ফ্যাশন থেকে শুরু করে আধুনিক ও ট্রেন্ডি পোশাক বিভিন্ন রুচি ও বয়সের মানুষ চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের বৈচিত্র্য দেখা যায়। এখানে শার্ট, টি শার্ট , প্যান্ট, জিন্স, পাঞ্জাবি, পতোয়া, সালোয়ার কামিজ, থ্রি পিছ, শাড়ি, গাউন, বাচ্চাদের পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাকের দোকান রয়েছে। বিভিন্ন দোকানে দৈনন্দিন ব্যবহারের পোশাকের পাশাপাশি পার্টি, উৎসব ও বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য উপযোগি পোশাকও পাওয়া যায়। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের দোকান থাকায় ক্রেতারা ডিজাইন, কাপড়ের মান, রং, আকার ও দামের মধ্যে তুলনা করে পছন্দের পোশাক বেচে নিতে পারেন। ঈদ, পূজা, বৈশাখ, বিয়ে বা অন্যান্য উৎসবের সময় এসব পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি আরও বাড়ে। পোশাকের দোকানগুলো শুধু কেনাকাটার সুযোগই তৈরি করেনা এগুলো দেশের ফ্যাশন ও খুচরা ব্যবসার বিকাশেও ভূমিকা রাখে। দোকান পরিচালনা, বিক্রয়, ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য কাজে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। একই সাথে দেশীয় পোশাক ও ফ্যাশন পণ্যের বাজারও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ পায়। বসুন্ধরা সিটির পোশাকের দোকানগুলো সিটির বাণিজ্যিক বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন বয়স ও প্রয়োজনের মানুষের জন্য নানা ধরনের পোশাক এক জায়গায় পাওয়ার সুবিধা বসুন্ধরা সিটিকে একাট আকর্ষণীয় শপিং গন্তব্যে পরিণত করেছে।
বসুন্ধরা সিটির বিনোদন ব্যবস্থা
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেকস শুধু কেনাকাটার জন্যই নয় বিনোদনের জন্যও ঢাকার একটি পরিচিত স্থান। পরিবারের সদস্য, বন্ধু বান্ধব ও বিভিন্ন বয়সী মানুষের অবসর সময় কাটানোর জন্য বসুন্ধরা সিটিতে বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। কেনাকাটার পাশাপাশি মানুষ এখানে সিনেমা দেখা, খাবার খাওয়া এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সময় কাটাতে পারেন। বসুন্ধরা সিটির বিনোদন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সিনেমা হল। আধুনিক পরিবেশে দেশি বিদেশি বিভিন্ন চলচ্চিত্র উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। সিনেমা দেখার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা শপিং কমপ্লেক্সের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকানে সময় কাটাতে পারেন। এতে একটি জায়গাতেই কেনাকাটা, খাবার ও বিনোদনের সুযোগ পাওয়া যায়। বসুন্ধরা সিটিতে শিশু ও তরুণদের জন্যও বিনোদনমূলক কার্যক্রমের সুযোগ রয়েছে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষ কেনাকাটার পর কিছুটা সময় বিনোদনের মাধ্যমে কাটাতে পারেন। বিভিন্ন উৎসব, বিশেষ আয়োজন ও মৌসুমি কার্যক্রমও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। বসুন্ধরা সিটির বিনোদন ব্যবস্থার আরেকটি দিক হলো সিটির পরিবেশ ও ভিতরের সাজসজ্জা। বড় পরিসরের শপিং স্পেস, আলোকসজ্জা, বিভিন্ন দোকান, খাবারের ব্যবস্থা ও মানুষের সমাগম মিলিয়ে এখানে একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে ছুটির দিন ও উৎসবের সময়ে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। বসুন্ধরা সিটির বিনোদন ব্যবস্থা আধুনিক নগরজীবনে কেনাকাটার পাশাপাশি অবসর কাটানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
বসুন্ধরা সিটিতে ইলেকট্রনিকস ও কম্পিউটার
বসুন্ধরা গ্রুপের বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে ইলেকট্রনিকস ও কম্পিউটার সামগ্রীর জন্য বিভিন্ন ধরনের দোকান ও শোরুম রয়েছে। এখানে ক্রেতারা কম্পিউটার , ল্যাপটপ, মনিটর, প্রিন্টার, কীবোর্ড, মাউস, হেডফোন, স্পিকার, ক্যামেরা এবং অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্য খুজে পেতে পারেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অফিসকর্মী, ফ্রিল্যান্সার, ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি প্রেমিদের জন্য কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিকসের বিভিন্ন পণ্য কেনার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের পণ্য তুলনা করে প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী পণ্য বেচে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। অনেক দোকানে কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও আনুষাঙ্গিক সামগ্রী পাওয়া যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটার আপগ্রেড বা নতুনভাবে তৈরি করার সুযোগ থাকে।
বসুন্ধরা সিটির ফুড কোর্ট
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ফুড কোর্ট ঢাকার অন্যতম পরিচিত শপিংমল ভিত্তিক খাবারের স্থান। ফুড কোর্টে বিভিন্ন ধরনের খাবারের ব্যবস্থা থাকায় একই জায়গায় ভিন্ন স্বাদের খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। বাংলা খাবার পাশাপাশি চাইনিজ, থাই, ফাস্টফুড, বিরিয়ানি, স্ন্যাকস, পানীয় ও মিষ্টান্নজাতীয় খাবারের বিভিন্ন আয়োজন দেখা যায়। পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের সাথে একসাথে খাওয়ার জন্য বসুন্ধরা সিটি একটি সুবিধাজনক স্থান। বসুন্ধরা সিটিতে দীর্ঘসময় কেনাকাটা করার পর বিশ্রাম নেওয়া ও খাবার খাওয়ার জন্য ফুড কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানে বিভিন্ন খাবারের দোকান কাছাকাছি থাকায় প্রত্যেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী খাবার সংগ্রহ করতে পারেন এবং সাধারণ বসার জায়গায় একসাথে বসে খেতে পারেন। এই ব্যবস্থা পরিবার ও বন্ধুদের দলবদ্ধভাবে সময় কাটানোর সুযোগও তৈরি করে। ফুড কোর্টের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো বসুন্ধরা সিটির বৈচিত্র্যময় খাবারের আয়োজন। কেউ ভাত বা বিরিয়ানি ধরনের খাবার পছন্দ করলে তা নিতে পারেন আবার কেউ হালকা নাস্তা, ফাস্টফুড, জুস বা আইসক্রিম বেছে নিতে পারেন। এতে বিভিন্ন বয়স ও রুচির মানুষের জন্য খাবারের বিকল্প তৈরি হয়। ফুড কোর্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন খাবারের ব্যবসার সুযোগও তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন খাদ্য বিক্রেতা ও কর্মীদের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। একই সাথে ক্রেতাদের বিভিন্ন ধরনের খাবারের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ঢাকার আধুনিক খাদ্য সংস্কৃতিতেও এধরনের ফুড কোর্টের ভূমিকা রয়েছে।
বসুন্ধরা সিটির ঘড়ি ও গয়না
বসুন্ধরা সিটির অন্যতম আকর্ষণীয় শপিং বিভাগ হলো ঘড়ি ও গয়নার দোকানগুলো। আধুনিক জ্যীবনযাত্রায় ঘড়ি যেমন সময় দেখার প্রয়োজনীয় সামগ্রী তেমনি বসুন্ধরা সিটি ব্যক্তিত্ব ও রুচির প্রকাশ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে গয়না মানুষের সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও সামাজিক অনুষ্ঠানের সাথে গভীরভাবে জড়িত। বসুন্ধরা সিটিতে বিভিন্ন ধরনের ঘড়ি ও গয়নার দোকান থাকায় ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ, প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। এখানে বিভিন্ন নকশা ও শৈলীর হাতঘড়ি পাওয়া যায়। সাধারণ ব্যবহার থেকে শুধু করে অফিস, ব্যবসায়ীক অনুষ্ঠান, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ উপলক্ষ্যের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঘড়ি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে। আধুনিক ডিজািইনের পাশাপাশি রুচিশীল ও ঐতিহ্যবাহী নকশার ঘড়িও পাওয়া যায়। পুরুষ, নারী ও তরুণদের জন্য আলাদা নকশা ও ধরন থাকায় ক্রেতারা সহজেই নিজেদের উপযোগি ঘড়ি নির্বাচন করতে পারেন। বর্তমান সময়ে স্মার্টওয়াচ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে। সময় দেখানোর পাশাপাশি অনেক স্মার্ট ওয়াচে স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, ফোনের নোটিফিকেশন দেখা এবং অন্যান্য প্রযুক্তি নির্ভর সুবিধা থাকে। বসুন্ধরা সিটির ঘড়ির দোকান আধুনিক প্রযুক্তিপ্রেমী ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। গয়নার ক্ষেত্রে রয়েছে স্বর্ণ, রুপা ও বিভিন্ন ধরনের অলংকারের চাহিদা। আংটি, কানের দুল, চেইন, হার, ব্রেসলেট, নাকফুলসহ নানা ধরনের গয়না মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। বসুন্ধরা সিটির ঘড়ি ও গয়নার বিভাগ শপিং মলের সামগ্রিক কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে।
বসুন্ধরা সিটিতে কর্মসংস্থান
বসুন্ধরা সিটি শুধু কেনাকাটার ও বিনোদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয় সিটিটি বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থার সৃষ্টির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি বড় শপিং কমপ্লেক্স পরিচালনার জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মী, বিক্রয়কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবস্থাপনা কর্মীর প্রয়োজন হয়। ফলে এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়। বসুন্ধরা সিটির বিভিন্ন কাজের দোকান ও শোরুমে বিক্রয়কর্মী, ক্যাশিয়ার, হিসাবরক্ষক ও দোকান ব্যবস্থাপনার কর্মী কাজ করেন। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, ইলেকট্রকিস, কম্পিউটার, ঘড়ি, গয়না ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসার সাথে যুক্ত হয়ে অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এখানকার রেস্তোরা ও ফুড কোর্টও কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। রান্নান কর্মী, ওয়েটার, ক্যাশিয়ার, ম্যানেজার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও খাদ্য সরবরাহের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। একটি বড় শপিং কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য নিরাপত্তাকর্মী, তদারককারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রয়োজন হয়। বসুন্ধরা সিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে পরোক্ষ কর্মসংস্থানও তৈরি হয়। পণ্য পরিবহন, সরবরাহ, ডেলিভারি, বিজ্ঞাপন, প্যাকেজিং, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিভিন্ন সেবা খাতের মানুষ বসুন্ধরা সিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হতে পারেন। এধরনের কর্মসংস্থান মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত চাকরি ও ব্যবসার মাধ্যমে মানুষ নিজের পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ পান।
বসুন্ধরা সিটির অফিস ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স শুধু কেনাকাটা ও বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত একটি বড় কমপ্লেক্স নয় বসুন্ধরা সিটির সাথে বিভিন্ন ধরনের অফিস ও বাণিজ্যিক পরিবেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায়। বসুন্ধরা সিটিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও অফিসের মাধ্যমে ক্রয় বিক্রয় , গ্রাহকসেবা, পণ্য সরবরাহ, হিসাব নিকাশ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারিরা প্রতিদিন গ্রাহকদের সেবা প্রদান করেন। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়। বসুন্ধরা সিটিতে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ব্যবসা পরিচালনার ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়। পোশাক, ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার, প্রসাধনী, জুতা, গৃহস্থালি পণ্যসহ নানা ধরনের ব্যবসার পাশাপাশি খাবার ও বিনোদনকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমও রয়েছে। একই স্থানে বিভিন্ন খাতের ব্যবসা পরিচালিত হওয়ায় বসুন্ধরা সিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বসুন্ধরা সিটির বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সাথে পরিবহন, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, খাবার সরবরাহ ও অন্যান্য সহায়ক সেবাও যুক্ত। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়। একই সাথে ব্যবসায়ীদের পণ্য বিক্রি ও গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। বসুন্ধরা সিটির অফিস ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ঢাকার নগর অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করে।
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বসুন্ধরা সিটি
বসুন্ধরা সিটি ঢাকার অন্যতম পরিচিতি আধুনিক বাণিজ্যিক ও শপিংকেন্দ্র। রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনে সিটিটি কেনাকাটা, ব্যবসা, খাবার ও বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন ধরনের দোকান, শোরুম, রেস্তোরা, ফুড কোর্ট, সিনেমা হল ও অন্যান্য সেবার সমন্বয়ে বসুন্ধরা সিটি একটি বহুমুখী বাণিজ্যিক কেন্দ্রের বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে। বসুন্ধরা সিটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবা একই স্থানে পাওয়া য়ায়। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার, মোবাইল, ঘড়ি, গয়না, বইসহ নানা ধরনের পণ্যের দোকান রয়েছে। এতে বিভিন্ন পণ্যের জন্য ক্রেতাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হয় না। বসুন্ধরা সিটি শুধু পণ্য বিক্রির স্থান নয় বরং ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখে। বসুন্ধরা সিটির বাণিজ্যিক গুরুত্বের সাথে কর্মসংস্থানের বিষয়টিও জড়িত। দোকান ও শোরুমের বিক্রয়কর্মী, ক্যাশিয়ার, ব্যবস্থাপক, নিরাপত্তাকর্মী , পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কারিগরিকর্মী এবং বিভিন্ন সেবাখাতে নিয়োজিত মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়। বসুন্ধরা সিটির খাদ্য ও বিনোদন ব্যবস্থা বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে। ফুড কোর্ট ও বিভিন্ন রেস্তোরায় খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। সিনেমাহলসহ বিনোদনের সুযোগ থাকায় মানুষ শুধু কেনাকাটার জন্য নয় অবসর কাটানো ও বিনোদনের জন্যও এখানে আসেন। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বসুন্ধরা সিটির অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সিটির কেন্দ্রীয় ও ব্যস্ত নগর পরিবেশের কারণে। বসুন্ধরা সিটি ঢাকার আধুনিক নগর অর্থনীতি ও ভোক্তা সংস্কৃতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
বসুন্ধরা সিটি ঢাকার আধুনিক নগরজীবন, বাণিজ্য ও বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আধুনিক স্থাপত্য, বিশাল পরিসর, অসংখ্য দোকান ও শোরুম, পোশাক, ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার, ঘড়ি ও গয়নার বাজার, ফুড কোর্ট, রেস্তোরা এবং সিনেমা হল সব মিলিয়ে বসুন্ধরা সিটি মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন ও অবসর কাটানোর সুযোগকে একই জায়গায় নিয়ে এসেছে। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ কেনাকাটা, খাবার, বিনোদন ও প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের জন্য আসেন। বসুন্ধরা সিটি শুধু একটি শপিং মল নয় বসুন্ধরা সিটির সাথে ব্যবসা বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানেরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন দোকান, রেস্তোরা, বিনোদনকেন্দ্র, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজধানীর অর্থনৈতিক কর্মকান্ডও সমৃদ্ধ হয়। ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনে মানুষ কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর জন্যও বসুন্ধরা সিটিতে আসেন। আধুনিক সুযোগ সুবিধা, পণ্য ও সেবার বৈচিত্র্য এবং বিনোদনের ব্যবস্থা বসুন্ধরা সিটিকে নগরবাসির কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। রাজধানীর আধুনিক ও গতিশীল নগরজীবনের সাথে বসুন্ধরা সিটি একটি পরিচিত নাম হিসেবে ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ধরে রাখার সম্ভাবনা রাখে।