আধুনিক বিশ্ব ও ইন্টারনেট হাতের মুঠোয় গোটা পৃথিবী।
আধুনিক যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ, বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার মানুষের জীবনে এনে দিয়েছে অভাবননীয় উন্নতি। বিজ্ঞানের যেসব আবিষ্কার মানুষকে সভ্যতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করতে সাহায্য করেছে তার অন্যতম হলো ইন্টারনেট। বর্তমান বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তির কর্মকান্ডকে ইন্টারনেট এমন এক সুতোর বন্ধনে আবদ্ধ করেছে যে, সে সুতো ছিড়ে গেলেই সমস্ত বিশ্বব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে।আধুনিক সভ্যতার ক্রমবিকাশে বিজ্ঞানের দান অপরিসীম। মানব সভ্যতার বিকাশে বিজ্ঞানের যেসম আবিষ্কার অনন্য ভূমিকা পালন করে তা হলো ইন্টারনেট। এটি কম্পিউটার ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্ভব হয়। এই ব্যবস্থা বিশ্বগ্রাম ধারণাকে বাস্তব রুপ দিয়েছে। আধুনিক ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে বিপুলভাবে সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। ইন্টানেট হলো বিশ্বের অসংখ্য কম্পিউটার, সার্ভার ও স্মার্ট ডিভাইসের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এটি শিক্ষা, গবেষণা, যোগাযোগ, তথ্য আদান প্রদান, ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বর্তমান যুগে ইন্টারনেট ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনা করা সম্ভব নয়।ইন্টারনেটের মাধ্যমে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
ভিডিও কল, ই মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহজে তথ্য আদান প্রদান করা যায়। শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল লাইব্রেরি এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। গবেষকরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষণাপত্র ও তথ্য সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন। ব্যবসা বাণিজ্যেও ইন্টারনেটের ভূমিকা রয়েছে। অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ই কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে কেনাকাটা ও আর্থিক লেনদেন করা সহজ হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সেবাও এখন অনলাইনে পাওয়া যায়। এতে সময় ও খরচ সাশ্রয়ী হয়। উন্নত জীবন ও বিশ্ব ব্যবস্থার এক অবিচ্ছেদ্য অনুসঙ্গ ইন্টারনেট। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষ ইন্টারনেট সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো অধিকাংশ মানুষের কাছে ইন্টারনেট সুবিধা পৌছে যাবে। মানুষের জীবন হয়ে উঠবে আরও উন্নত ও সুখী সমৃদ্ধ।
ইন্টারনেট কী?
ইন্টারনেট হলো ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সার্ভিস। অসংখ্য নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্বব্যাপী সুবিশাল কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে ইন্টারনেট বলা হয়। ইন্টারনেট হলো কম্পিউটারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক যাকে ইংরেজিতে বলা হয় World wide electronic network। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সব কম্পিউটার অতি দ্রুততার সাথে যোগাযোগ করতে পারে এবং তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক শব্দটির সংক্ষিপ্ত রুপ হলো ইন্টারনেট। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো এই ব্যবস্থা। ইন্টারনেট একক কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত কম্পিউটার ভিত্তিক একটি বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এটি অবশ্যই একটি জটিল এবং বিস্তৃত ব্যবস্থা যাতে অনেকগুলো নেটওয়ার্ক একসাথে কাজ করে। ইন্টারনেট হলো নেটওয়ার্ক সর্মূহের নেটওয়ার্ক। বর্তমান যুগে ইন্টরনেট আধুনিক জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, কৃষি, সরকারি সেবা ও ব্যবসাসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইন্টারনেটের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্টারনেট হলো বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত একটি বৈশ্বিক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। যা কোটি কোটি কম্পিউটার, সার্ভার, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই যোগাযোগ, তথ্য আদান প্রদান, শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা বাণিজ্য, বিনোদন এবং বিভিন্ন অনলাইন সেবা গ্রহণ করতে পারেন। সহজ ভায়ায় বলতে গেলে ইন্টারনেট হলো এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ অল্প সময়ে তথ্য খুজে পেতে, ই মেইল পাঠাতে, ভিডিও কল করতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে, অনলাইনে কেনাকাটা করতে এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারে।
ইন্টারনেটের অনলাইন ও অফলাইন
ইন্টারনেটের ইতিহাস
ইন্টানেট উদ্ভাবনের প্রাথমিক কারণ ছিল সামরিক। সর্বপ্রথম মার্কিন সামরিক সংস্থা বিশ্বব্যাপী নিজেদের অবস্থানগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক গোপন যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য ১৯৬৯ সালে প্রথম ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু করে। তখন এটি পরিচিত ছিল MILNET নামে। এ প্রযুক্তিকে আরও জনকল্যাণমূখী করে তোলার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেওয়া হলে তারা শিক্ষা, গবেষণা ও তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। তখন শিক্ষাজগতে এর নামকরণ হয় অ্যাপারনেট। পরবর্তীকালে এটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, যা বর্তমানে ইন্টারনেট নামে পরিচিত লাভ করেছে। ১৯৬০ এর দশকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গবেষণা সংস্থা অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি বা আরপা পরীক্ষামূলকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলে। প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে তৈরি করা এই নেটওয়ার্ক আরপানেট নামে পরিচিত ছিল। এতে প্রাথমিকভাবে যুক্ত ছিল। ইন্টারনেট ১৯৮৯ সালে আইএসপি দ্বারা সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ১৯৯০ এর মাঝামাঝি থেকে ১৯৯০ এর পরবর্তি সময়ের দিকে পশ্চিমাবিশ্বে ইন্টারনেট ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হতে থাকে। ১৯৯০ দশকে ইন্টারনেট দ্রুত সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষা, ব্যবসা ,গবেষণা ও যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। বর্তমানে ইন্টারনেট বিশ্বে কোটি কোটি মানুষকে সংযুক্ত করেছে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগের প্রধান ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা
ইন্টারনেট কিভাবে ব্যবহার করতে হয়
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রথমে যে দুটি জিনিস সংগ্রহ করতে হয় তাহলো একটি কম্পিউটার এবং ফিক্সড টেলিফোনের একটি লাইন। কম্পিউটারে সংযোক্ত করতে হয় বিশেষ ধরনের নেটওয়ার্কিং সফটওয়্যার। আরেকটি অবশ্যকীয় বস্তু হলো মডেম বা মডিউলেটর। এটি ব্যবহারকারীর কম্পিউটার হতে প্রাপ্ত অন্যান্য কম্পিউটারে প্রেরণ এবং অন্যান্য কম্পিউটার হতে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহারকারীর কম্পিউটারের সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয় প্রদানের মাধ্যমে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার নামে বিশেষ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ইন্টারনেট সংযোগ নিতে পারে।
ইন্টারনেট ব্যবহারের
ধাপ
মোবাইল ডেটা বা Wi-Fi এর মাধ্যমে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত হন। মোবাইল বা কম্পিউটারে Chrome, Firefox, Edge বা Safari এর মতো ব্রাউজার চালু করুন। ব্রাউজারের ঠিকানা বারে ওয়েবসাইটের নাম লিখে প্রবেশ করুন। যেমনঃ www.google.com সার্চ ইঞ্জিনে প্রয়োজনীয় বিষয় লিখে সার্চ করুন । এরপর ফলাফল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখুন ই মেইলের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো, গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনীয় নথি আদান প্রদান করা যায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস, ব্যাংকিং, কেনাকাটা, চিকিৎসা পরামর্শ, সরকারি সেবা এবং চাকরির আবেদন করা যায়।
নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারের নিয়ম
- শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
- ব্যক্তিগত তথ্য অপরিচিত কাউকে দেবেন না।
- সন্দেহজনক লিংক বা ফাইল খুলবেন না।
- বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
- প্রয়োজন হলে দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু রাখুন।
ইন্টারনেটের ব্যবহার
ইন্টারনেট আধুনিক যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা যায়। দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইন্টারনেটের ব্যবহার রয়েছে। বর্তমান সমাজে ইন্টারনেট সভ্য সমাজের মানুষের জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে। ইন্টারনেট ছাড়া জীবন অচল। এর মাধ্যমে মুহূর্তেই বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। লেখাপড়া, গবেষণা, সাহিত্যচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, বই ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো সময় পাওয়া যায়। এটি মানুষের হাতের মুঠোয় জ্ঞানভান্ডার তথ্য লাইব্রেরিকে এনে দিয়েছে। পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া যায়। হোটেল রিজার্ভেশন, টিকিট কাটা সবই সম্ভব অনলাইনে। এছাড়াও ইন্টারনেটে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ নেওয়া যায়। ঘরে বসেও বিশ্ববিখ্যাত সিনেমা, নাটক দেখা যায় যা বিনোদনকে সহজ করে দিয়েছে। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো যেমন- ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদির মাধ্যমে বন্ধুত্ব স্থাপন এবং যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারে ইন্টারনেট এনেছে নতুন দিগন্ত। অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইনে কেনাবেচা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দিয়েছে নতুন মাত্রা। এতে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। সংবাদপত্র ও খেলাধুলার ক্ষেত্রকেও ইন্টারনেট অনেক সহজ ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করেছে। ইন্টারনেট মানুষের জীবনকে সহজ ও আধুনিক করেছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয়তা ও সময়ের সঠিক ব্যবহারের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ইন্টারনেটের ব্যবহারের দিক
ইন্টারনেট সিস্টেমে বহুল ব্যবহৃত কয়েকটি ব্যবহারিক দিকগুলো হলো- দ্রুত সময়ে তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা হলো ই মেইল। ই মেইলের কার্যকারিতা ফ্যাক্সের মতোই। তবে ফ্যাক্সে কাগজের ব্যবহার হয়। এতে কাগজের ব্যবহার হয় না। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত কম্পিউটারগুলোতে রাখা তথ্য দেখার পদ্ধতি। ২০০৯ সালে বাংলাদেশে মাত্র ৯৬ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ছাড়িয়েছে। সারা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। অনলাইনে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির কথা বা টেক্সড আড্ডা। ইন্টারনেটের তথ্য ভান্ডারে রক্ষিত সংবাদ। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার। নেটওয়ার্কে তথ্য সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি পদ্ধতি হচ্ছে আর্কি যা তথ্য সমূহকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সূচি আকারে সমন্বয় করতে সক্ষম। ইন্টারনেটে তথ্য সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে স্থাপিত একটি পদ্ধতির নাম গোফার যা গুরুত্বানুসারে তথ্যের সমন্বয় করে এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুসারে তথ্য খুজে নেয়। অর্থনৈতিক লেনদেন ও বাণিজ্যিক সুবিধা। ইন্টারনেটের ব্যবহারের দিকগুলো হলোঃ অনলাইন ক্লাস, ই বুক, শিক্ষামূলক ভিডিও ও তথ্য অনুসন্ধান করা যায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে। ই মেইল, ভিডিও কল, মেসেজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণায়ও ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। অনলাইন ব্যাংকিং, টাকা লেনদেন ও বিল পরিশোধেও ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ, স্বাস্থ্যতথ্য ও অনলাইন স্বাস্থ্যসেবায় ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। চাকরির বিজ্ঞপ্তি, অনলাইন আবেদন ও ফ্রিল্যাংন্সিংয়েও ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। গান, সিনেমা, খেলাধুলা, গেইম ও বিভিন্ন ভিডিও উপভোগ করতে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। আবহাওয়ার তথ্য, কৃষি পরামর্শ ও বাজারদর জানতে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবস্থা
১৯৯৩ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু হয়। সে সময় অফলাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সার্ভিস চালু হয়। ফলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তখন শুধু E Mail সার্ভিসের সুবিধা পাওয়া যেত। বাংলাদেশ অনলাইন নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হয় ১৯৯৬ সালে। বর্তমানে ১২টি প্রতিষ্ঠান অনলাইন সংযোগ দিয়ে থাকে। ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলায়, ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রদেষ্টা, ছক, ট্যাপ, আগ্র, সিমেন্ট ,বিডিমেল, বিডিনেট এবং অরোরা ১ উল্লেখযোগ্য। অফলাইনে সংযুক্ত থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তথ্যে বিশাল জগতের সকল সম্পদ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। সেসময় ই মেইলের মাধ্যমে কেবল ডাউনলোড ও আপলোড ছাড়া কিছুই করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু অনলাইন সার্ভিস চালু হওয়ার পর যোগাযোগের সকল বাধা দূর হয়। বেশ কিছু দিন আগে বাংলাদেশ অনলাইন ইন্টারনেট সার্ভিস এর বিশাল জগতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ৪ জুন VSAT চালুর মাধ্যমে প্রথম অনলাইন ইন্টারনেট চালু করে ISN (Information Services Network)। এরপর গ্রামীণ সাইবার নেট, ইউ অনলাইন, BRAC, BDMAIL, PRADESHTA NET, AGNI SYSTEM ইত্যাদি সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল যুক্ত হওয়াতে বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থা আরও উন্নত হতে চলেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ওয়াই ফাই অঞ্চল ঘোষণা করে এবং সেখানে বিনামূল্যে এবং মোবাইলের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৭ কোটি লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার
তথ্য প্রযুক্তির বিশ্বগ্রাসী বাংলাদেশেও সাড়া ফেলেছে। দ্রুতই ঐ যোগাযোগ ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের টি এবং টি বোর্ড ইন্টারনেট ব্যবস্থা বাণিজ্যিকীকরণের জন্য বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে ভি স্যাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সাবমেরিন ক্যাবল বা তথ্য মহাসরণির সাথে যুক্ত হয়েছে। এরপরে দ্রুততর সময়ে ব্যাপকভাবে তথ্য ও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে। সরকার প্রতিটি জেলাকেই ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় এনেছে। আজকাল মোবাইল ফোনেও ইন্টারনেট ব্যবহার করারসুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের ইন্টারনেটের প্রধান ব্যবহারগুলো হলো- ই মেইল, ভিডিও কল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ করা। অনলাইন ক্লাস, ই বুক, ভিডিও লেকচার এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট থেকে পড়াশোনা। ই কমার্স, অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল লেনদেন। অনলাইনে জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, কর প্রদান, চাকরির আবেদনসহ বিভিন্ন ইসেবা গ্রহণ। টেলিমেডিসিন, অনলাইনে ডাক্তার দেখানো এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ। ভিডিও দেখা, গান শোনা, অনলাইন গেইম খেলা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার। আবহাওয়ার তথ্য, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং বাজারদর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ। অনলাইনে চাকরি খোঁজা, দক্ষতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করা। বাংলাদেশের তরুণরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ করে আয় করছেন। বিভিন্ন পর্যটনস্থানের তথ্য হোটেল বুকিং ও যাতায়াতের ব্যবস্থা অনলাইনে করা যায়। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সতর্কবার্তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৌছানো যায়।
ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ইন্টারনেট
ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা বাণিজ্য, প্রশাসন ও দৈনিক জীবনকে আধুনিক ও সহজ করে তুলাকে বুঝায়। আর এই ডিজিটাল ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ইন্টারনেট। বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালে তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলার পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। দেশের সরকারি অফিস আদালত, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সেবা সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। ই গভর্নেন্স এবং ই বিজনেস এর ফলে সরকারি কাজ ব্যবসা বাণিজ্য অনেক সহজ হয়ে এসেছে। অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা আর্থিক কর্মকান্ডকে অনেক বেশি গতি ধারণ করেছে। তবে একথা সত্যি যে উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশ এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। ইন্টারনেট হলো ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রধান ভিত্তি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ বিশ্বের যেকোনো জায়গার সাথে সহজেই যোগাযোগ করতে পারে। অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সরকারি সেবা নিতে পারে, ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করতে পারে, ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ফলে নাগরিক সেবায় গতি বুদ্ধি পেয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ফলে অনলাইন আবেদন, ডিজিটাল পেমেন্ট, ই লার্নিং, ই কমার্স এবং টেলিমেডিসিনের মতো সেবা মানুষের জীবনকে আরও সহজ করেছে। এছাড়াও কৃষকরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আবহাওয়ার তথ্য, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং বাজারদর সম্পর্কে জানতে পারছেন। সঠিক ও নিরাপদভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারলে আরও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলা সম্ভব।
তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে করনীয়
তথ্যপ্রযুক্তি একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির আরও উন্নয়ন ও কার্যকর ব্যবহারের জন্য গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। জ্ঞান বিজ্ঞান ও ইন্টারনেট ব্যবহারে নিজ অবস্থান সুদৃঢ় করতে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে এক্ষেত্রে যারা পিছিয়ে পড়ছে, তারা এক ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, যাকে ডিজিটাল বৈষম্য বলা হয়। বাংলাদেশও এরূপ বৈষম্যের শিকার। এ বৈষম্য দূর করতে চাইলে যে কাজগুলো করতে হবে তা হলো- আমাদের তরুণ সমাজকে তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। ব্যাপক সংখ্যক জনগনের নিকট ইন্টারনেট পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য তথ্য প্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তথ্য প্রযুক্তির জগতে ভাষা হিসেবে ইংরেজির অধিপত্য একক। তাই ইংরেজির ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে হবে। তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ জনসম্পদ এবং সরকার গড়ে তুলতে হবে। সারা দেশে দ্রুত গতির ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা আরও জোড়দার করা। দক্ষ আইটি জনশক্তি গড়ে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করা। সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো। সরকারি ও বেসরকারি সেবাকে আরও ডিজিটাল ও সহজলভ্য করা। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা। সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অনলাইন অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। গ্রাম ও শহরের মধ্যে প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমিয়ে সবার জন্য সমান ডিজিটাল সুযোগ নিশ্চিত করা। তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ও নৈতিক ব্যবহার সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করা।
ইন্টারনেটের উপকারিতা
ইন্টারনেটের অপকারিতা
প্রতিটি জিনিসের যেমন উপকারিতা থাকে তেমনি থাকে অপকারিতা। ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও তেমন ব্যতিক্রম নয়। ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফির ছড়াছড়ি থাকায় যুব সমাজ এর প্রতি বিশেষভাবে ঝুঁকে পড়েছে। সাইবার ক্যাফগুলোতে তরুণ তরুণীদের ভিড় আমাদের জন্য দুর্ভাবনারয় বয়ে এনেছে। তাছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইলিং, মিথ্যা গুজব রটানোর ঘটনাও ঘটছে। সন্ত্রসী ও চোরাচালানিরাও ইন্টারনেটকে নিজের কাজে ব্যবহার করছে। ইন্টারনেট চ্যাটিং করে তরুণ তরুণীরা সময় নষ্ট করছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইন থাকলেও তা বিতর্কিত ৫৭ ধারা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ রয়েছে ইন্টারনেট যেমন অনেক উপকার করে তেমনি এর অপব্যবহার নানাধরনের সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে তা হলো- অতিরিক্ত সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করলে পড়াশোনা,কাজ ও পারিবারিক জীবনে নেকিবাচক প্রভাব পড়ে। ইন্টারনেটে গুজব ও ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পরে, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে।হ্যাকিং,অনলাইন প্রতারণা,পরিচয় চুরি এবং আর্থিব জালিয়াতির ঝুঁকি থাকে। অসতর্কভাবে তথ্য শেয়ার করলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পড়াশোনার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন গেমে বেশি সময় ব্যয় করলে শিক্ষার ক্ষতি হয়। দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারে চোখের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত, মাথাব্যথা ও মানসিক চাপ দেখা দিতে পারে। অনলাইনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কমে যেতে পারে। শিশু কিশোররা অনুপযুক্ত বা ক্ষতিকর বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে আসতে পারে। সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেইল এবং মানহানিকর কর্মকান্ডের শিকার হওয়ার আশংকা থাকে। উদ্দেশ্যহীনভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ভিডিও দেখার কারণে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।
আধুনিক সভ্যতার অগ্রযাত্রায় ইন্টারনেট এক অবিচ্ছেদ্য শক্তি। এর মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। উন্নত জীবন ও বিশ্বব্যবস্থার এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ ইন্টারনেট। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষ ইন্টারনেট সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো অধিকাংশ মানুষের কাছে ইন্টারনেট সুবিধা পৌছে যাবে এবং মানুষের জীবন হয়ে উঠবে আরও উন্নত ও সুখী সমৃদ্ধ। ইন্টারনেট আধুনিক বিশ্বের যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা বাণিজ্য ও তথ্য প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এটি পৃথিবীকে একটি বিশ্বগ্রামে পরিণত করেছে এবং মানুষের জীবনকে করেছে সহজ ও গতিশীল। তবে এর অপব্যবহার সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ইন্টারনেটের অপব্যবহার, সাইবার অপরাধ ও আসক্তি থেকে সতর্ক থাকা জরুরি। নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও কল্যাণমূলক কাজে ইন্টারনেটের ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে এর সুফল আরও ব্যাপকভাবে পাওয়া সম্ভব। সচেতনতা, নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহার করেই আধুনিক বিশ্বকে আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী করে তুলতে পারে।


