ডিজিটাল বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন দিগন্ত।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭১ সালে। তারপর থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে গড়ে তুলার সংগ্রাম শুরু। স্বাধীনতার ৪৪ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আমরা উন্নয়নশীলতার গন্ডি থেকে বের হতে পারিনি। আসেনি আশানুরূপ অগ্রগতি। দেশের কর্মকান্ডে গতিশীলতা সৃষ্টিতে ডিজিটাল পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। ডিজিটাল পদ্ধতি বাংলাদেশের সকল কর্মকান্ডের সাথে ক্রমান্বয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার সংযুক্ত হলেই গড়ে উঠবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি প্রত্যয়, একটি স্বপ্ন। বিরাট এক পরিবর্তন ও ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে এখন বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ নেন। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণই ছিল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান বিষয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে এমন একটি বাংলাদেশকে বোঝায়, যেখানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও আধুনিক করা হয়।
শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন, যেখানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনেও ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণেই মানুষ ঘরে বসেই অনেক সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পড়াশোনা ও তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছে। কৃষকরা প্রযুক্তির মাধ্যমে আবহাওয়া ও কৃষি সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারছে। একই সাথে ই-কমার্স, মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যবসার প্রসার মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে আরও সহজ করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সবার জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার, সাইবার নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা
ডিজিটাল বাংলাদেশ কি
ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা
২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করে যে ২০১১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হবে। একটি উন্নত দেশ, সমৃদ্ধ ডিজিটাল সমাজ, একটি ডিজিটাল যুগের জনগোষ্ঠী, রূপান্তরিত উৎপাদনব্যবস্থা, নতুন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি সব মিলিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্নই দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ বস্তুত জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রধান সোপান। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য যে সমৃদ্ধি ও উন্নত জীবন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম, ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করবে। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি ১৭ থেকে ১২ নভেম্বর ২০০৯-এ ডিজিটাল বাংলাদেশ সামিট নামক এ বিষয়ে প্রথম র্শীষ সম্মেলনের আয়োজন করে, যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আলোচিত হয়।এই ঘোষণার মূল লক্ষ্য ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, সরকারি সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পৌছে দেওয়া। ডিজিটাল বাংলাদেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে মানবসম্পদ উন্নয়ন, নাগরিকদের সংযুক্ত করা, নাগরিকের দোরগোড়ায় সেবা পৌছে দেওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল।
বিনোদনের ক্ষেত্রে
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জাতীয় অগ্রাধিকার
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা ছিল বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অগ্রাধিকার। এর মূল লক্ষ্য ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে একটি জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও দক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলা। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম জাতীয় অঙ্গিকার হচ্ছে ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে দেশ থেকে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অগ্রাধিকার থাকতে হবে। সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। প্রতিটি ঘরকে তার বা বেতার পদ্ধতিতে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে। দেশের সব অঞ্চলের জনগণকে ডিজিটাল যন্ত্রে সজ্জিত করাসহ ডিজিটাল ডিভাইস প্রণয়ন করা জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া আরও যেসব বিষয় অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য করা হবে তা হলো- জনগণের নিজস্ব সংযুক্তি, জনগণের সঙ্গে সরকারের সংযুক্তি, সরকারেরর ডিজিটাল রূপান্তর, উপযুক্ত মানবসম্পদ তৈরি, কৃষি, শিল্প ও ব্যবসার রূপান্তর। এর প্রধান অগ্রাধিকারগুলো হলো- নাগরিকদের দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা প্রদান এবং সেবাগুলো অনলাইনে AOCTYN যোগ্য করা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির ব্যবহার, অনলাইন শিক্ষা ও ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রি সম্প্রসারণ। দ্রুত গতির ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো দেশব্যাপি বিস্তৃত করা। তরুণদের ICT প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা। শহর ও গ্রামের মধ্যে প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমিয়ে প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীকেও ডিজিটাল সেবার আওতায় আনা ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নাগরিকের তথ্য ও অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ১. প্রধান লক্ষ্য ও ২.রাজনৈতিক লক্ষ্য। প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো- ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্তরে স্তরে অনুন্নত জীবনধারাকে বদলে বাংলাদেশের সমাজকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজে রূপান্তর করা। কার্যত এ দেশের মানুষের জীবন-যাপন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবস্থাপনা, কর্মপদ্ধতি, শিল্প- বাণিজ্য ও উৎপাদন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা এবং জনগণের সরকারসহ সব স্তরের সব কাজকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করা। রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো হলো- ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কিছু রাজনৈতিক লক্ষ্য রয়েছে। ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে জনগণের উন্নত জীবনযাপনের বাস্তবায়ন, মৌলিক মানবিক অধিকার সংরক্ষণ, সব সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা থাকবে। এই রাষ্ট্রের জনগণের কাছে এই প্রযুক্তি সহজলভ্য ও সুলভ করা হবে। রাষ্ট্রকে জনগণের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হবে। জনগণ যাতে করে জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম হয়, তার জন্য তাকে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার শেখাতে হবে। এই সেই প্রযুক্তি তার কাছে রাষ্ট্রকেই সহজলভ্য করতে হবে। দরিদ্র জনগণকে জ্ঞানকর্মী বা ডিজিটাল প্রযুক্তিকর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং গ্রামে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি, মেধা ও জ্ঞানভিত্তিক শিলাপ-বাণিজ্যসহ কৃষি, শিক্ষা, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি থাকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের কর্মসূচি
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-সরকারের কাজ করার পদ্ধতি ডিজিটাল করা, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌছানো, ডিজিটাল ভূমিব্যবস্থা, ডিজিটাল বিচারব্যবস্থা, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা, কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর, যোগাযোগব্যবস্থায় ডিজিটাল পদ্ধতির প্রচলন করা, তথ্যের অবাধ চলাচলের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা গ্রহণ। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রধান দিকগুলো- অনলাইনে বিভিন্ন সরকারি সেবা, আবেদন, নিবন্ধন ও তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, ডিজিটাল ল্যাব, ই-বুক ও অনলাইন শিক্ষার প্রসার। প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ও সেবা মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া। কৃষকদের আবহাওয়া, বাজারদর ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতির তথ্য সরবরাহ। আইটি দক্ষতা উন্নয়ন এবং অনলাইন কাজের সুযোগ সৃষ্টি। দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবা পৌছে দেওয়ার উদ্যোগ। গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কর্মসূচির ফলে সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সময় ও খরচ কমানো, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পথ সুগস হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তির ওপর স্মার্ট বাংলাদেশ ধারণা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশের চারটি প্রধান স্তর হিসেবে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সমাজ, স্মার্ট সরকার ও স্মার্ট অর্থনীতি উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে
শিক্ষা ক্ষেত্রে ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার করে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য, মানসম্মত ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলাকে বোঝায়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রথমেই শিক্ষার ওপর আরোপ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকের লেকচার বা বক্তব্য ভিডিও করে প্রজেক্টের মাধ্যমে দেওয়ালে সাদা পর্দায় তা প্রদর্শন করা যায়। এটি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণের সহজ পদ্ধতি। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে এ পদ্ধতিতে ঘরে বসেও শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। নিজস্ব বই না থাকলেও লাইব্রেরিতে যাওয়ার প্রয়োজন হয়না। ইন্টারনেটের ওয়েবসাইট থেকে খুজে নিয়ে তা পড়ে ফেলা যায়। এভাবে ডিজিটাল পদ্ধতি শিক্ষা ক্ষেত্রে উৎকর্ষ ভয়ে আনতে পারে। তবে একে সর্বজনীন করার জন্য ব্যাপক সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠদান আরও আকর্ষণীয় হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইন ক্লাস, ভিডিও লেকচার ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক উপকরণ ব্যবহার করতে পারে। ই-বুক ডিজিটাল কনটেন্ট ও অনলাইন লাইব্রেরির মাধ্যমে সহজে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষার সুযোগ পেতে পারে। ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল, রেজিস্ট্রেশন ও বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম অনলাইনে করা সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষকরা অনলাইন প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা উন্নত করতে পারেন। ডিজিটাল প্রযুক্তি শিক্ষাব্যবস্থাকে সহজ ও আধুনিক করেছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সুবিধা, ডিভাইসের অভাব এবং ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতি দূর করা জরুরি।
যোগাযোগ ক্ষেত্রে
চিকিৎসা ক্ষেত্রে
চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ সাশ্রয়ী ও জনগণের কাছে পৌছে দেওয়াকে বোঝায়। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ইন্টরনেট সংযোগ স্থাপিত হলে ডাক্তারের কাছে সরাসরি উপস্থিত না হয়েও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করে ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করা যায়। যে কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যায় ঘরে বসে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করা যেতে পারে। বিষয়টি সরকারি উদ্যোগে সর্বজনীন হয়ে উঠলে এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে ডিজিটাল বাংলাদেশ। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভূমিকাগুলো হলো- দূরবর্তী এলাকার রোগীরাভিডিও কল বা অনলাইনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যাওয়ার আগে অনলাইনে চিকিৎসকের সিরিয়াল নেওয়া যায়। রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসার ইতিহাস ও ওষুধের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য, রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়। চিকিৎসক ডিজিটালভাবে প্রেসক্রিপশন দিতে পারেন, ফলে কাগজের ব্যবহার কমে এবং তথ্য সংরক্ষণ সহজ হয়। ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। প্রযুক্তির মাধ্যমে শহরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া সম্ভব। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড ও অনলাইন চিকিৎসাসেবা মানুষের সময় ও খরচ কমাতে সাহায্য করছে।
কৃষি ক্ষেত্রে
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে কৃষি গভীরভাবে জড়িত। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকরা সহজে কৃষিবিষয়ক তথ্য, পরামর্শ ও বিভিন্ন সেবা পেতে পারছেন। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে কৃষিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। বিজ্ঞানের বদৌলতের উদ্ভাবিত হয়েছে উন্নত জাতের বীজ, পরিবেশ বান্ধব সার ও উচ্চ ফলনশীল প্রজাতির শস্য। অনাবৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাও উদ্ভাবিত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের কৃষক সমাজ অধিকাংশ নিরক্ষর হওয়ার কারণে সবকিছুর সফল ব্যবহার করতে পারছেনা। তাই কৃষকদের যথার্থ প্রশিক্ষণ দিয়ে উপযুক্ত করে তুলতে পারলে েইন্টারনেটের মাধ্যমে ওয়েভসাইট থেকে নানা বিষয় জেনে নিয়ে তা কাজে লাগাতে পারে। তাহলে এক্ষেত্রেও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠতে পারে। বর্তমানে কৃষি ক্ষেত্রে ডিজিটাল বাংলাদেশের ভূমিকাগুলো হলো- মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কৃষকরা ফসল চাষ, সার, বীজ ও রোগবালাই সম্পর্কে পরামর্শ নিতে পারেন। বৃষ্টি, ঝড়, তাপমাত্রা ও অন্যান্য আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে কৃষকরা সঠিক সময়ে বীজ, বপন, সেচ ও ফসল কাটার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের রোগ ও পোকামাকড় শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সরকারি বিভিন্ন কৃষি তথ্য ও অনলাইনে পাওয়া যায়, ফলে কৃষকদের সময় ও খরচ কমে। ড্রোন, সেন্সর, স্মার্ট সেচব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে টাকা পাঠানো ও গ্রহণ করতে পারেন।


