দৈন্দনিন জীবনে কম্পিউটারের গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিক সভ্যতার শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি হিসেবে কম্পিউটার বর্তমানে মানবজীবনের সঙ্গে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত। আধুনিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে জনপ্রিয় আবিষ্কার হলো কম্পিউটার। মানসিক ও বুদ্ধিগত কাজকে যে যন্ত্র আজ দক্ষভাবে সম্পন্ন করে চলেছে। মানুষকে দিয়েছে স্বস্তির নিশ্বাস, সে এ যুগের বরপুত্র কম্পিউটার। যাকে বাংলায় যন্ত্রগনক বলা হয়। এ যন্ত্র আবিষ্কারের সাথে সাথে আমরা প্রযুক্তি বিদ্যায় এক নতুন যুগের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। কম্পিউটার আধুনিক প্রযুক্তির একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। এটি মানুষের চিন্তা ও চেতনার বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। এর কাজ অত্যন্ত দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য। কম্পিউটার হলো বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্র। কম্পিউটার শুধুই গননাই করে না যে কোনো জটিল সমস্যার সমাধানও করতে পারে। আমাদের বর্তমান জীবনে অনেক কিছু সহজতর হয়েছে বিজ্ঞানের এই আবিষ্কারের কারণে। আগে যে কাজ করতে দিনের পর দিন লেগে যেত এখন তা হচ্ছে চোখের পলকে। এসব হচ্ছে আধুনিক বিজ্ঞানের বিষ্ময়কর আবিষ্কার কম্পিউটারের মাধ্যমে। আধুনিক যুগে কম্পিউটার আমাদের কাজকে সহজ করে দিয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করে অনলাইনে ক্লাস করা যায়। অফিস- আদালতে তথ্য সংরক্ষণ করা যায়, হিসাব নিকাশ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ করা যায়। অনলাইন ক্লাস, পড়াশোনা ও ডিজিটাল বই পড়তে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। রোগীর তথ্য সংরক্ষণ, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কম্পিউটর ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি ও হিসাব রাখার ক্ষেত্রে ও কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও সিনেমা দেখতে, গান শুনতে ও গেইম খেলতে কম্পিউটারের ব্যবহার রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

চিকিৎসা ক্ষেত্রেও কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং, বিনোদন, অনলাইনে কেনাকাটা এবং বিভিন্ন সেবামূলক কাজে কম্পিউটার মানুষের সময় ও শ্রম সাশ্রয় করছে এবং কাজের দক্ষতা বাড়িয়েছে। গ্রামভিত্তিক
সমাজের স্থিতাবস্থাকে ভেঙ্গে দিয়ে শিল্পবিপ্লব মানবসমাজের গঠন ও প্রকৃতিতে এনে দিয়েছিল
এক বিপুলবিস্তারী ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন। মানুষ নিজেকে নিজের শক্তির সম্ভাবনাকে
আবিষ্কার করল কলকারখানা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এর পরের ইতিহাস যন্ত্রযুগের আত্মপ্রতিষ্ঠার
ইতিহাস। আর এই পটভূমিতেই কম্পিউটারের আবিষ্কার ও বিকাশ। আজকের দিনে কম্পিউটার এবং কম্পিউটার
নির্ভর স্বয়ংক্রিয়তা একদিকে যেমন যন্ত্রের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে বহুগুণিত
করে মানুষের কর্মদক্ষতাকে, উৎপাদন ক্ষমতাকে বিপুলভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনিক
কাজকর্ম ও প্রয়োজনীয় হিসাব নিকাশজাতীয় গতানুগতিক
কাজকর্মের দায়িত্ব গ্রহণ করে অনাবশ্যক মানসিক শ্রমকে ব্যবহারিক অর্থে অনেক সহজ করে
তুলেছে। অবশেষে বলা যায়, কম্পিউটার আধুনিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও উন্নতি ও গতিশীল করে তুলছে।
কম্পিউটার কি? কত প্রকার ও কি কি?
কম্পিউট হলো একটি গ্রীক ভাষা, যার অর্থ হলো গনক। কম্পিউটার কথার অর্থ হলো গনক যন্ত্র। এর ফলে কম্পিউট থেকে কম্পিউটারের নামকরণ হয়েছে। যে যন্ত্র বৈদ্যুতিক তড়িৎ দ্বারা চালিত হয়।ইংরেজি "Computer" শব্দের বাংলা অর্থ গনকযন্ত্র। এটি একটি যান্ত্রিক তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা, যা নির্দেশ গ্রহণ ও সংরক্ষণ করে এবং জটিল সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে । কম্পিউটারের জনক বলা হয় চার্লস ব্যাবেজকে।
কম্পিউটারের প্রকারভেদ ও বিভিন্ন অংশ
কাজের ধরন অনুসারে কম্পিউটারের বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। যেমন- বড় ধরনের কম্পিউটার, মাঝারি ধরনের কম্পিউটার ও ছোট ধরনের কম্পিউটার। কম্পিউটারের প্রধান দুটি অংশ থাকে- ১.হার্ডওয়্যার।২. সফটওয়্যার। হার্ডওয়্যার বলতে আমরা বুঝি- ১. কী বোর্ড।২. মাউস।৩. হার্ডডিক্স।৪. মনিটর প্রসেসর ইত্যাদি। সফটওয়্যার বলতে আমরা চিনি- ১. মাইক্রোসফট অফিস।২. মাইক্রোসফট এক্সেল।৩. মিডিয়া প্লেয়ার।৪. উইনডোজ।৫. লিনাক্স।কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে আবার তিনটি অংশে ভাগ করা যায়। যথা-১.ইনপুট ডিভাইস।২. প্রসেসিং ডিভাইস।৩. আউটপুট ডিভাইস।কম্পিউটারের সফটওয়্যারকে আবার দুটি অংশে ভাগ করা যায়-১. সিস্টেম সফটওয়্যার।২. এপ্লিকেশন সফটওয়্যার।গঠন ও বৈশিষ্টের ভিত্তিতে কম্পিউটারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ১. এনালগ কম্পিউটার।২.ডিজিটাল কম্পিউটার।৩. হাইব্রিড কম্পিউটার। ডিজিটাল কম্পিউটারকে আবার চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১.সুপার কম্পিউটার।২. মিনি কম্পিউটার।৩. মেইনফ্রেম কম্পিউটার।৪. মাইক্রো কম্পিউটার। মাইক্রো কম্পিউটারকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায়।১. ডেস্কটপ।২. ল্যাপটপ।৩. নোটবুক।৪. সাব নোটবুক।
কম্পিউটার আবিষ্কার
কম্পিউটারের প্রাথমিক ধারণা আসে চার্লস ব্যাবেজ পরিকল্পিত একটি গণকযন্ত্র থেকে। নির্ভুল এবং দ্রুত গণনার প্রয়োজনীয়তা ব্যাবেজকে এই পরিকল্পনায় প্রেরণা যুগিয়েছিল। যোগ বিয়োগ করতে সক্ষম গণনাযন্ত্র প্রথম তৈরি করেন গণিতবিদ ক্লেইলি পাসকেল ১৬৪২ সালে। ১৬৭১ সালে গডফ্রাইড লেবনিটজ প্রথম যোগ ও ভাগের ক্ষমতাসম্পন্ন যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরি করেন। আধুনিক ক্যালকুলেটরের মূলনীতি ১৮১২ সালে চার্লস ব্যাবেজ প্রথম পরিকল্পনা করেন। ১৯৪৪ সালে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয় ও আই. বি. এম কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে ইলেকট্রো মেকানিক্যাল কম্পিউটার তৈরি হয়। এরপর থেকে কম্পিউটারের গঠন ও প্রকৃতি অত্যন্ত দ্রুত বিবর্তিত হয়েছে।
কম্পিউটার কিভাবে চালু এবং বন্ধ করবেন ?
আমরা প্রথমত যেভাবে কম্পিউটার চালু করবো তা হলো- আমাদের এখানে মনিটর, সিপিইউ, ইউপিএস রয়েছে। ইউপিএস এর কাজ হচ্ছে এটি একটি ব্যাটারী। কম্পিউটার অফ হয়ে গেলে চার্জ কিছুক্ষণ ধরে রাখে, প্রায় ২৫-৩০ মিনিটের মতো। কম্পিউটারের সাথে এখানে মাউস কী-বোর্ড ও সাউন্ডবক্স রয়েছে। আরও একটি যন্ত্র রয়েছে এটির নাম হলো স্পিকার, কম্পিউটার যখন অন হয় তখন এর মধ্যে একটি শব্দ শুনা যায়। এখানে সাউন্ডবক্সের কাজ হচ্ছে আমাদের বাহিরের যে সমস্ত পাওয়ার পয়েন্ট করি সে সমস্ত কাজের শব্দ শুনা যায়।
আজকে আমরা কম্পিউটার কিভাবে অন করতে হয় সেটাই শিখবো-
প্রথমেই আমরা কম্পিউটারের ইলেক্টিক সুইচ বাটনের সুইচ অন করলাম । তারপরে আমরা ইউপিএস এর পাওয়ার বাটনটা প্রেস করে অন করে দিলাম, এখানে একটু শব্দ হবে, ইউপিএস এর পাওয়ার বাটনে আলো জ্বলতে পারে। এরপরে আমরা সিপিইউ এর মধ্যে যে সুইচ বাটন থাকে সেখানে চলে যাবো। সিপিইউ এর মধ্যে পাওয়ার বাটনের যে আইকন থাকে সেটাতে আমরা ক্লিক করবো, ক্লিক করার পর এখানে একটি আলো জ্বলবে, অল্প কিছুক্ষণ পরই মনিটরটা অন হয়ে যাবে। কম্পিউটার অন হওয়ার সময় একটি আওয়াজ হয়, এটি মূলত ইউপিএস এর মধ্যে হয়। এভাবেই কম্পিউটারটা অন করতে হবে। এখন আমরা শিখবো কম্পিউটার কিভাবে অফ করতে হয়-
কম্পিউটার অফ করতে গেলে প্রথমেই আমাদের যে কাজটি করতে হবে তা হলো মাউস চালানো শিখতে হবে। মাউসের মধ্যে চাকার মতো যে বাটনটি তা হলো স্ক্রল বাটন এবং এর ডান পাশের বাটনকে রাইট বাটন ও বাম পাশের বাটনকে লেফট বাটন বলে। এখন আমাদেরকে মাউসটাকে একটু সরিয়ে নিয়ে আসতে হবে, মাউসটাকে সরানোর ফলে এখানে একটা আইকন আসছে এটাকে মাউস পয়েন্টার বলে। মাউস পয়েন্টারের লেফট বাটন দিয়ে আমরা ক্লিক করব। এখানে আমরা মাউস পয়েন্টারকে স্টার্ট বাটনে ক্লিক করবো, তারপর এখানে পাওয়ার বাটন আসবে, পাওয়ার বাটনে ক্লিক করার পরে এখানে তিনটি অপশন আসবে স্লীপ, শাট-ডাউন, রিস্টার্ট । কম্পিউটার পুনরায় চালু করতে গেলে রিস্টার্ট এ ক্লিক করবো। কস্পিউটার একেবারে অফ করার জন্য শাট- ডাউনে ক্লিক করতে হবে । আর স্লীপ বাটনে ক্লিক করলে সিপিইউ বন্ধ হয়ে যাবে। এবার আমরা মাউসের লেফট বাটনে ধরে শাট-ডাউনে ক্লিক করবো এরপর শাট-ডাউন হয়ে যাবে। পরে আমরা যে কাজ করবো আইপিএস এর পাওয়ার বাটন চেপে ধরবো একটা শব্দ হবে, এবার আইপিএসটি বন্ধ হয়ে গেলো। এরপর আমাদের যে কাজটি করতে হবে তা হলো ইলেক্টিক বোর্ডের সুইচটি অফ করে দিতে হবে । এভাবেই কম্পিউটার অন অফ করতে হয়।
স্মৃতিশক্তি ও সঞ্চয়
কম্পিউটারের স্মৃতিশক্তি বা মেমোরি অনেক বিশাল। এটি বিপুল পরিমাণ তথ্য দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ীভাবে জমা রাখতে পারে। হার্ডডিস্ক বা ক্লাউড স্টোরেজের মাধ্যমে আমরা হাজার হাজার বই, ছবি এবং ভিডিও সংরক্ষণ করতে পারি। প্রয়োজনে মুহূর্তের মধ্যে সেই তথ্য খুজে পাওয়া যায়। তথ্যের এই বিশাল ভান্ডার মানবজাতির জ্ঞান সংরক্ষণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এছাড়া প্রয়োজনের সময় সংরক্ষিত তথ্য দ্রুত খুজে বের করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পাদনা বা স্থানান্তর করা যায়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যাওয়ার ঝুকি কমে এবং সময় ও শ্রম সাশ্রয় হয়। তথ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণে কম্পিউটার আধুনিক জীবনের একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম।
কম্পিউটারের কাজ কি? কম্পিউটার কি কি কাজে ব্যবহার করা হয়?
কম্পিউটারের কাজ বহুবিধ হলেও কম্পিউটার নিচের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। যথা- সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারী কর্তৃক তৈরি প্রোগ্রাম কম্পিউটার গ্রহণ করে, মেমরীতে সংরক্ষণ এবং ব্যবহারকারীর নির্দেশে কম্পিউটার প্রোগ্রাম নির্বাহ করে। কী বোর্ড , মাউস, জয়স্টিক, ডিক্স ইত্যাদি ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটার ডাটা গ্রহণ করে। ডেটা প্রসেসিং করে এবং মনিটর, প্রিন্টার, ডিক্স ইত্যাদি আউটপুট ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটার ফলাফল প্রকাশ করে।
কম্পিউটার যে সকল কাজে ব্যবহার করা হয় তা হলো-
কম্পিউটার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাড়িয়েছে, ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধ মান ব্যবহারের সাথে কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষকে বিশ্বব্যাপী সংযোগ এবং সহযোগিতা করতে সক্ষম করেছে। বিশ্বকে আরও সংযুক্ত এবং অ্যাক্সেযোগ্য জায়গা করে তুলেছে। আধুনিক এ যুগে এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে কম্পিউটার ব্যববহার করা হয় না। আমাদের অনেকের ধারণা কম্পিউটারে শুধু লেখার কাজ আর গান শুনা যায়। ধারণাটি সস্পূর্ণ ভুল, কম্পিউটার অনেক কাজে ব্যবহৃত হয়। ওয়াইফাই লাইন বর্তমান বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। সিনেমার কাজ কম্পিউটার দিয়ে করা হয়, ভিডিও এডিটিং এর কাজ গ্রাফিক্স এর কাজ কম্পিউটার দিয়ে করা হয়। ফেইসবুক, ইউটিউব এই মাধ্যমগুলো সাধারণত কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়। হাসপাতালের কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। বিল্ডিং এর ডিজাইনের কাজে ব্যবহৃত হয়। অফিসের কাজে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। আদালতের কাজে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। পরিবহনের কাজেও কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ব্যবসা- বাণিজ্যের কাজেও কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। কৃষিক্ষেত্রেও কম্পিউটার ব্যববহার করা হয়। কম্পিউটার কাজকে দ্রুত, সহজ এবং নির্ভুল করে তুলে। তাই এটি আধুনিক জীবনের একটি অপরিহার্য প্রযুক্তি।
কম্পিউটার যেভাবে কাজ করে
কম্পিউটারের ক্রিয়াকলাপ এক দিক থেকে মানুষের মগজের সঙ্গেই তুলনীয়। মানুষ তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য সুসংবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখে তার স্মৃতিতে। এর ওপর নির্ভর করে সে যেকোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে। কম্পিউটারের একটি স্মৃতিভান্ডার আছে যেখানে দুটি জিনিস সংরক্ষিত রাখতে হয়। ১. কোনো একটি বিশেষ সমস্যা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য, যাকে নিয়ে কম্পিউটার কাজ করবে। ২. সে বিশেষ সমস্যা সমাধানের একটি ক্রমবিন্যস্ত পদ্ধতি, যে ক্রমবিন্যাস অনুযায়ী সে কাজ করবে। সুতরাং একটা বিশেষ সমস্যা কম্পিউটার কখনই সমস্যা সমাধান করতে পারবে, যখন তার স্মৃতিতে কী নিয়ে কাজ হবে এবং কিভাবে কাজ হবে এ দুটি বিষয়ই থাকবে। প্রথমটিকে বলা হয় তথ্য, দ্বিতীয়টিকে বলা হয় প্রোগ্রাম ও এ বিষয়টিকে বলা হয় কম্পিউটার সফটওয়্যার। অন্যান্য যন্ত্রের মতো কম্পিউটারের একটি হার্ডওয়্যার বা যান্ত্রিক কাঠামো ও গঠন আছে, যা যন্ত্রটির ক্রিয়াকলাপ নির্ধারণ করে। কিন্তু কম্পিউটারের স্বাতন্ত্র্য হলো, তথ্য ও প্রোগ্রামের রদবদল ঘটিয়ে একই কম্পিউটারকে দিয়ে কাজ করানো যায়। কম্পিউটারের প্রয়োগ বিস্তৃতির মূল কারণ চারটি। ১. অত্যন্ত দ্রুত গণনা করার ক্ষমতা, ২. বিপুল পরিমাণ তথ্যকে সুসংবদ্ধভাবে সংরক্ষণ করার ক্ষমতা, ৩. ভ্রমশূন্যতা এবং ৪. ব্যবহার করার ক্ষমতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তি, অর্থাৎ ঐ চারটি বৈশিষ্ট্যকে যথাযথভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতা। কম্পিউটার মূলত ইনপুট, প্রক্রিয়াকরণ, আউটপুট ও সংরক্ষণ এই কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে কাজ করে। কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার,মাইক্রোফোন ইত্যাদির মাধ্যমে কম্পিউটারে তথ্য বা নির্দেশনা দেওয়া হয়। CPU বা কেন্দ্রিয় প্রসেসিং ইউনিট ইনপুট করা তথ্য বিশ্লেষণ ও হিসাব নিকাশ করা। CPU এর Control Unit কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে এবং ALU গাণিতিক ও যৌক্তিক কাজ সম্পন্ন করে। কম্পিউটার প্রয়োজনীয় তথ্য সাময়িকভাবে RAM এ এবং স্থায়ীভাবে হার্ডডিস্ক বা SSD তে সংরক্ষণ করতে পারে। প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল মনিটর, প্রিনটার, স্পিকার ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। কম্পিউটার নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে কাজ সম্পন্ন করে। তাই কম্পিউটারের ব্যবহার আজ বিচিত্র ও বহুমুখী পথ ধরে এগিয়ে চলেছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব
কম্পিউটার আধুনিক যুগের অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তি । এটি বিভিন্ন তথ্য প্রক্রিয়া সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করার কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে সক্ষম। শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটার বিভিন্ন পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন- ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি শেখানোর পদ্ধতি, অনলাইন কোর্স ও শিক্ষা ব্যবস্থার মূল্যায়ন শিক্ষাক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, মূল্যায়ন মার্কশিট প্রভৃতি তৈরির কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষার প্রস্তুতির কাজে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। অনলাইন ইন্টারনেটে প্রবেশিকা পরীক্ষা ও ভর্তি কাজে কম্পিউটার দ্বারা কাজ সম্পন্ন করা হয়। কম্পিউটারের মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা এখন বইয়ের বাইরে থেকে অনলাইন কনটেন্ট এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয় শিখতে পারছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা বিশ্বের সেরা শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুলগুলো আজকাল নিজেদের শিক্ষা পাঠ্যক্রম অনলাইনে নিয়ে এসেছে। শিক্ষার্থীরা ভিডিও, লেকচার, কুইজ, পঠন পাঠন এবং ফিডব্যাক পেতে পারে সহজেই। এতে করে শিক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি আরোও সহজ এবং জগতব্যাপী পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। কম্পিউটার শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জন্য একটি অত্যন্ত সহায়ক প্রযুক্তি। তারা শিখানোর জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট যেমনঃ ভিডিও, ইন্টারেকটিভ প্রেজেন্টেশন, অনলাইন কোর্স তৈরি করতে পারে। এতে তাদের শিক্ষাদান কার্যক্রম আরও আকর্ষণীয় এবং কার্যকর হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা এখন কম্পিউটার ব্যবহার করে বিভিন্ন সফটওয়্যার, অনলাইন টুলস এবং শিক্ষামূলক গেমস ব্যবহার করে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। শিক্ষার প্রতি আগ্রহও বাড়ে, কারণ তারা শিখতে পারছে খেলার মাধ্যমে। কম্পিউটার দ্বারা তথ্য সংগ্রহের কাজ সহজ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন দ্রুত এবং সঠিক তথ্য পেতে পারে ইন্টারনেটের মাধ্যসে, যা পূর্বে বই বা অন্যথায় খোঁজা ছিল অনেক কষ্টকর।
শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা
আধুনিক জীবনযাত্রায় কম্পিউটারের ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ । শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার বহু বিচিত্র হলেও এর ব্যবহারের বিভিন্ন সুবিধা ও অসুবিধা দেখা যায়। এখন আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধাগুলো সম্পর্কে জানবো-
শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা
ছবি, ভিডিও, অ্যানিমেশন ও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কঠিন বিষয় সহজে বোঝা যায়। ঘরে বসেই অনলাইন ক্লাস, ভিডিও টিউটোরিয়াল ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কোর্স করা যায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত বিভিন্ন বই, গবেষণা ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়। কম্পিউটারে ই বুক ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক উপকরণ পাওয়া যায়। পরীক্ষা নেওয়া, খাতা মূল্যায়ন, ফলাফল তৈরি ও সংরক্ষন, সহজ হয়। কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষার্থী সহজেই নিজের প্রবণতা ও ইচ্ছা অনুসারে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। কম্পিউটারের দ্বারা ব্যক্তি পার্থক্য অনুসারে শিক্ষাদান সহজেই করা যায়। কম্পিউটারে শিক্ষার্থী সহজেই নিজের প্রয়োজন অনুসারে শিক্ষার বিষয় অনুশীলন করতে পারে। কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী আত্নবিশ্বাসের সঙ্গে সহজেই সমস্যা সমাধান করতে পারে। কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীর শিক্ষাগ্রহণে সক্রিয়তা সৃস্টি করে। কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষায় সহজেই মূল্যায়ন করা যায়।
শিক্ষাক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যববহারের অসুবিধা
কম্পিউটারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করলে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা কমে যেতে পারে। গেম, সামাজিক যোগাযোগ ও বিনোদনের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। দীর্ঘ সময় কম্পিউটার ব্যবহারে চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি হতে পারে। ইন্টরনেটের ভুল বা মিথ্যা তথ্য শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে পারে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা অনলাইনে হয়রানির ঝুকি থাকে। সবার কাছে কম্পিউটারের মাধ্যমে করার অভ্যাস হাতে কলমে শেখার আগ্রহ কমাতে পারে। সবার কাছে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের সমান সুযোগ না থাকায় শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হতে পারে। কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর মধ্যে সৃজনশীলতার অভাব দেখা দেয়।. কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষায় সংবেদনশীলতার অভাব সৃষ্টি হয়। কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী শিক্ষাক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাব থাকায় সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে না। এই ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কম্পিউটার ভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষায় যান্ত্রিকতা সৃষ্টি করে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব
চিকিৎসা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব অপরিসীম। চিকিৎসা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের অনেক অবদান রয়েছে। এটি চিকিৎসা সেবাকে দ্রুত,নির্ভুল এবং কার্যকর করতে সাহায্য করে। আগে একটা সময় ছিল যখন গ্রামে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল না। দেশের বড় বড় শহরে গিয়ে চিকিৎসা করা হতো । কিন্তু এখন আর তা করতে হয় না । আধুনিক প্রযুক্তির দ্বারা সবই সম্ভব হয়েছে। আমরা সবাই জানি কম্পিউটারের মাধ্যমে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা হয়। বিশেষ করে পেটে বেথা হলে এই পরীক্ষাটি করতে হয়। অনেক সময় বিভিন্ন অঙ্গের সমস্যা টিউমার, পাথর বা অন্যান্য রোগ সনাক্ত করতে সাহায্য করে। এছাড়াও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কোনো গর্ভবতী রোগীর গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য অবস্থা কেমন তা কম্পিউটারের মাধ্যমে দেখা যায়। পরীক্ষার ছবি ও তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দেখা ও বিশ্লেষণ করা যায়। রোগীর আল্ট্রাসাউন্ডের ছবি ও রিপোর্ট কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা যায়, যা ভবিষ্যতে কাজে লাগে। এছাড়াও আরও বিভিন্ন চিকিৎসায় কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এক্স-রে তেও কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। এতে রোগীর মাংসপেশিতে কোনো আঘাত পেলে তা স্পষ্ট দেখা যায়। এছাড়াও হাত, পা বা শরীরের অন্যান্য কোনো অংশের হাড় ভেঙ্গে গেলে তা এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়। তাছাড়া কম্পিউটারের মাধ্যমে সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং অন্যান্য পরীক্ষা নির্ণয় করা হয়। রোগীর চিকিৎসা, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং প্রেসক্রিপশন কম্পিউটারের মাধ্যমেই নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায়। জরুরী অবস্থায় রোগীর তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়, এতে তারাতারি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। তাছাড়াও নতুন ঔষধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কারে কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কম্পিউটারের মাধ্যমে হাসপাতালে রোগী ভর্তি, বিলিং, অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ সহজে পরিচালনা করা যায়। এছাড়াও ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরবর্তী রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হয়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কম্পিউটারের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন করা যায়। জটিল গাণিতিক হিসাব ও বৈজ্ঞানিক মডেল তৈরি করতেও কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। বিজ্ঞানের অনেক জটিল রহস্য সমাধানে কম্পিউটারের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এটি অত্যন্ত তীব্রতার সাথে গণনা করার জন্যও খুব দরকারী। কম্পিউটারে পরিস্থিতিগুলির যথাযথ মূল্যায়ন করাও সম্ভব। কম্পিউটারের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা আবহাওয়া পূর্বাভাস, মহাকাশ গবেষণা, চিকিৎসাবিজ্ঞান,জেনেটিক গবেষণা এবং পরিবেশ বিষয়ক গবেষণায় সঠিক ও নির্ভরযোগ্য ফলাফল অর্জন করতে পারেন। কম্পিউটারের মাধ্যমে গবেষকরা দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে পারেন। এছাড়ও জটিল গাণিতিক হিসাব, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মডেল তৈরি করতে কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া গবেষণাগারে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষার ফলাফল সংরক্ষণেও কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সঙ্গে তথ্য আদান প্রদান করতে যেমন সহজ হয় ঠিক তেমনি গবেষণাও করা যায়। কম্পিউটার বিজ্ঞান গবেষণার গতি, নির্ভুলতা এবং কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কম্পিউটার দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে, যার ফলে সময় ও ব্যয় দুটিই কমে যায়। গবেষণায় সংগৃহিত বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করতে কম্পিউটার সাহায্য করে। কম্পিউটারের মাধ্যমে গবেষণার তথ্য দীর্ঘদিন নিরাপদে রাখা যায় এবং প্রয়োজন হলে আবার পাওয়া যায়। গবেষণার প্রতিবেদন, চার্ট, গ্রাফ এবং উপস্থাপনা তৈরি করতে কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতএব বলা যায়, আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণার অগ্রগতিতে কম্পিউটার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। যা গবেষণাকে আরও দ্রুত, সহজ ও কার্যকর করেছে।
বাণিজ্য ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব
বাণিজ্য ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে ব্যবসা বাণিজ্যের কার্যক্রম অনেক সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল হয়েছে। বর্তমানে ছোট বড় প্রায় সব ধরনের ব্যবসায় কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাণিজ্য ও ব্যবসার উন্নয়নে কম্পিউটারের গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে হিসাব নিকাশ, পণ্য ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সেবা, ব্যবসায়িক তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। কম্পিউটারের মাধ্যমে আয় ব্যয়, লাভ ক্ষতি, আর্থিক লেনদেনের হিসাব সহজে করা যায়। ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিরাপদে রাখা যায় এবং প্রয়োজন হলে বের করা যায়। মজুদ পণ্যের পরিমাণ, কেনা বেচার তথ্য সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কম্পিউটারের মাধ্যমে বিক্রয়, মুনাফা ও অন্যান্য ব্যবসায়িক তথ্যের উপর রিপোর্ট করা যায়। কম্পিউটারের মাধ্যমে ব্যবসার কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং পরিচালন ব্যয় কমে। আধুনিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে লাভজনক করতে কম্পিউটারের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে সব ধরনের পণ্যই পাওয়া যায়। এতে ক্রেতা বিক্রেতা দুজনেরই সময় বাচে। বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক রিপোর্ট নির্ভুলভাবে তৈরি করা যায়। অনলাইনের মাধ্যমে এক শহর থেকে অন্য শহরে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে ব্যবসা করা যায়। ব্যবসায়িক পণ্যের মজুদ পরিমাণ সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কম্পিউটারের মাধ্যমে ব্যবসায় সময় ও খরচ কম লাগে। ই-মেইল ও ভিডিও মিটিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবসায়িক যোগাযোগ করা যায়। এতে ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ে এবং ব্যবসায়িক পণ্য বিক্রয় করতে সাহায্য করে। অনলাইন বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে পণ্যের প্রচার ও বিক্রয় বাড়ানো যায়। আধুনিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় কম্পিউটার ব্যবসার গতি, লাভজনকতা, দক্ষতা ও নির্ভুলতা বাড়ায়। ফলে ব্যবসা আরও সফল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে।
প্রশাসনিক ও আইন- আদালতের ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব অনেক বেশি। আধুনিক প্রশাসন ব্যবস্থাকে দ্রুত স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে কম্পিউটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কম্পিউটার অনেক পরিমাণে তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করে এবং খুব সহজেই তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রশাসনিক রিপোর্ট তৈরি করা যায়, হিসাব নিকাষ করা যায়, নথি প্রস্তুত করা যায়। কম্পিউটারের মাধ্যমে ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ করা যায়। এছাড়াও নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি সেবা সহজেই দেওয়া যায়। কম্পিউটারের মাধ্যমে ই-মেইল, অনলাইন মিটিং ও বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যায়। অতএব বলা যায়, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কম্পিউটার দক্ষতা বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনসেবা উন্নতি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আইন-আদালতের ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব
আইন আদালতের ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে বিচারের কাজ আরও দ্রুত সুশৃঙ্খলভাবে করা যায়। কম্পিউটারের মাধ্যমে বিচারক ও আইনজীবীরা অতি তারাতারি নথি প্রস্তুত করতে সক্ষম হচ্ছেন। এতে কাজ হয় দ্রুত সময়ও বাচেঁ টাকাও কম খরচ হয়। মামলার নথি রায় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করা যায় কম্পিউটারে। এছাড়া পুরোনো মামলা আইন ও রায়ের কাগজপত্র সহজেই পাওয়া যায়। আধুনিক এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে দূরবর্তী স্থান থেকেও আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে ই-ফাইলিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে মামলা দায়ের করা যায়। কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে কাগজপত্রের ব্যবহার কমছে এবং দিন দিন নথি হারিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং, আইন ও আদালতের ক্ষেত্রে কম্পিউটার বিচার ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
যোগাযোগ ক্ষেত্রে ও চিত্র বিনোদন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব
যোগাযোগ
ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব
আধুৃনিক
যুগের প্রযুক্তি বর্তমান যুগে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে
সহজ করতে কম্পিউটারের অনেক
ভূমিকা রয়েছে। এর মাধ্যমে পৃথিবীর
এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে
তথ্য আদান প্রদান করা
সম্ভব হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো
জায়গা থেকে ভিডিও অডিও
কলে কথা বলা যায়।
আগে একটা সময় ছিল
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে
অন্য প্রান্তে যোগাযোগ করা কষ্টকর ছিল।
কিন্তু এখন তা আধুনিক
প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও সহজ হয়েছে।
আগে যোগাযোগ করার জন্য মানুষ
গ্রাম থেকে শহরে যেতো
কিন্তু এখন আধুনিক প্রযুক্তির
বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে ঘরে বসেই
যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে।
কম্পিউটারের মাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুব সহজেই
মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়।
এখন আর দূরে গিয়ে
যোগাযোগ করতে হয় না
এতে সময় ও খরচ
দুটিই বাচেঁ। কম্পিউটার ও ইনটারনেটের মাধ্যমে
সারা বিশ্বের মানুষের সাথে যোগাযোগ করা
যায়।
চিত্র
ও বিনোদন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের গুরুত্ব
চিত্র
ও বিনোদন জগতে কম্পিউটার একটি
গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। কম্পিউটারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ছবি ভিডিও অ্যানিমেশন
ও বিনোদনমূলক কনটেন্ট বানানো যায় এবং আনন্দও
পাওয়া যায়। কম্পিউটারের সাহায্যে
আকর্ষণীয় ব্যানার লোগো পোস্টার ছবি
বানানো যায়। কম্পিউটার নাটক
সিনেমা ভিডিও মিউজিক ডকুমেন্টারি প্রচারের কাজে অনেক ভূমিকা
রাখে। গান রেকর্ডিং সুর
সংযোজন ও সম্পাদনার কাজে
কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া
গান নাটক সিনেমা ভিডিও
ইন্টারনেটের মাধ্যমে কম্পিউটারে দেখা ও শোনা
যায়। কম্পিউটার চলচ্চিত্রে বাস্তবসম্মত দৃশ্য ও বিশেষ প্রভাব
তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটার
বিভিন্ন অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ও কার্টুন তৈরিতে
ব্যবহার করা হয়। আমাদের
মধ্যে অনেকেই আছে যারা কার্টুন
দেখতে পছন্দ করে। এছাড়াও কম্পিউটারে
বিভিন্ন ধরনের গেইম বানানো হয়।
প্রায় ছেলে মেয়েরাই এখন
গেইম খেলতে পছন্দ করে। অবশেষে বলা
যায়, চিত্র ও বিনোদন ক্ষেত্রে
কম্পিউটার সৃজনশীলতা বাড়ায়। উন্নত মানের কনটেন্ট তৈরি করতে এবং
মানুষকে বিনোদনের সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমান সময়ে কম্পিউটার শিক্ষার গুরুত্ব
বর্তমান সময়ে কম্পিউটারের কাজ শেখার গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট করেছেন কিন্তু তারা কম্পিউটার চালাতে জানেন না। তাহলে মনে করবেন বর্তমান সময়ে আপনি অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। কম্পিউটারের গুরুত্ব জানা থাকলে কাজ শিখতেও আগ্রহ জাগে। কম্পিউটার শেখার গুরুত্ব জানলে কি লাভ হবে তা আজকে আলোচনা করবো। কম্পিউটার মিল, ফেক্টরী, অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রচলিত রয়েছে। কম্পিউটারের কাজ জানেন না যারা তারা বর্তমান সময়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। আপনার যদি সার্টিফিকেট থাকে ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্স কমপ্লিট করে থাকেন যদি কম্পিউটারের কাজ কম বেশি জেনে থাকেন তাহলে আজই কম্পিউটারের কাজ শেখার জন্য ইচ্ছা পোষণ করেন, তাহলে কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে যান। বর্তমান সময়ে কম্পিউটারের কাজের গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে বেকারত্বের হার বেশি। আপনারা যারা বেকার অবস্থায় আছেন তারা কম্পিউটারের কাজ শিখে বেকারত্ব কমাতে পারেন। আপনার যদি ডিগ্রি বা মাস্টার্স এর সার্টিফিকেট থাকে, কম্পিউটারে যদি দক্ষ থাকেন তাহলে আপনি খুব সহজে অফিসার পদে চাকরি পেয়ে যাবেন। কম্পিউটারের কাজ এতটাই গুরুত্ব হয়েছে যে, যারা কম্পিউটারে ভালো ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, ভিডিও ইডিটিং কাজ জানে তারা ঘরে বসেই হাজার হাজার টাকা ইনকাম করছে। আপনি কেন পিছিয়ে পরে থাকবেন,কম্পিউটার ছাড়া আপনি এগোতে পারবেন না, ভালো পজিশনে যেতে পারবেন না। কম্পিউটারের কাজ যদি আপনি জানেন তাহলে বর্তমান সময়ে আপনি ভালো লেভেলে যেতে পারবেন। কম্পিউটারের কাজটি আরামদায়ক এবং সম্মানিত পেশা। আপনি এসএসসি দিয়ে থাকলে এই সময়টা কাজে লাগান। বর্তমান সময়ে কম্পিউটারের কাজ করে অনেকেই অনেক টাকা ইনকাম করছে এবং সম্মানও অর্জন করছে। তাই বলা যায়, বর্তমান সময়ে কম্পিউটারের কাজের গুরুত্বের কোনো শেষ নেই।
কম্পিউটার আধুনিক সভ্যতার এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা বাণিজ্য, যোগাযোগ, গবেষণা, প্রশাসনসহ জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এটি মানুষের কাজকে সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল করেছে। আধুনিক জীবন ও বিজ্ঞানের সঙ্গে কম্পিউটার জড়িত থেকে মানুষের জন্য যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে, তা থেকে মানুষের কল্যাণ বয়ে আনতে হবে এই কম্পিউটারের মাধ্যমে। আমাদের সমস্যাজনিত দেশে কম্পিউটার হয়ত অন্ধকার থেকে আলোতে আনার পথ দেখাবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বাজেট, অর্থনৈতিক, সামাজিক, কারিগরি ও শিল্পবাণিজ্য সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি সমস্যা সমাধান দেয় এ কম্পিউটার। মানুষের চিন্তাধারায় পরিকল্পনা বিশ্লেষণ, নিরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক অবদান রাখছে কম্পিউটার। তবে কম্পিউটারের অপব্যবহার ও অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়িয়ে এর সঠিক ও সৃজনশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কম্পিউটারকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি উন্নত সমাজ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই কম্পিউটারের সফল ভোগ করার জন্য আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।